লিপস্টিক সমাচার

Posted: মার্চ 16, 2012 in ইতিহাস, না জানা ঘটনা

সৌন্দর্য্যের বিকাশ ঘটানো এবং নিজেকে আকর্ষনীয় করে তুলতে অন্যন্যে প্রয়াসের অন্যতম উপাদান প্রসাধনী। আর এই প্রসাধনী যুগ যুগ ধরে নারী পুরুষ উভয়ই ব্যবহার করে আসছে। নারীর সৌন্দর্য্যে অন্যতম হল ঠোঁট। আর এই ঠোঁটকে রাঙাতেই ব্যবহৃত নানারকম ঠোঁট পালিশ বা রঙ যাকে কিনা বলে লিপস্টিক। কোথায় এবং কিভাবে এই লিপস্টিকের উদ্ভব তা বের করতে ইতিহাসের পাতায় ডুব দিতে হল।আজ থেকে ৫০০০ বছর আগে ব্যবিলনের কাছে ঐতিহাসিক উর শহরে মেসপটেমিয়ান নারীদের ঠোঁটে লিপস্টিকের ব্যবহার প্রথম দেখা যায়। সেসময় লিপস্টিক হিসেবে ব্যবহৃত হয় মূল্যবান পাথর গুড়া। পাথর চূর্ণ করে একেবারে মিহি গুড়ার প্রলেপ লাগানো হত ঠোঁটের উপর। ইন্দাস ভেলি সভ্যতায় নারীরা লাল রং তাদের ঠোঁটে প্রয়োগ করত।

ঐতিহাসিক মিশরীয় নারীরা আয়োডিন এবং ব্রোমিন থেকে রক্ত বর্ণ রং নিংড়ে বের করত ঠোঁট পালিশ হিসেবে ব্যবহার করার নিমিত্তে। সময়ের আবর্তনে এর নাম হয় মৃত্যু চুম্বন (The kiss of death)। রানী ক্লিওপেট্রা তাঁর ঠোঁটে লিপস্টিক ব্যবহার করতেন। ক্লিওপেট্রার লিপস্টিক তৈরী হত মেরুন রঙের বিটল পোকা থেকে। যা একটি গাঢ় লাল রঙের আভা তৈরী করত। তাছাড়া লিপস্টিকের বেজ হিসেবে ব্যবহার করতেন পিঁপড়া।

১৬০০ শতাব্দিতে ইংল্যান্ডের রানী এলিজাবেথ এর শাসনকাল লিপস্টিক বেশ জনপ্রিয় প্রসাধনী ছিল। চক সাদা মুখে গাঢ় রঙের পালিশের প্রকাশ ঘটান। তখন এই ঠোঁট পালিশ তৈরি করা হত মোম আর গাছ-গাছড়া থেকে।

লিপস্টিক একটি আকর্ষনীয় এবং জনপ্রিয় প্রসাধনী হলেও এর বিরুদ্ধে রয়েছে বহু সমালোচনা। প্রথমদিকে ইংল্যান্ডের এক ধর্মযাজক থমাস হল লিপস্টিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেন। তার মতে, মুখে রং ব্যবহার করা শয়তানের কাজ।

১৭৭০ সালে ইংল্যান্ডের পার্লামেন্ট একটি আইন পাশ করে লিপস্টিকের বিরুদ্ধে। সেখানে বলা হয়, কোন নারী সৌন্দর্য্য চর্চার মাধ্যমে কোন পুরুষকে বিবাহের জন্য বিমোহিত করলে তা ডাইনির মত কাজ বলে বিবেচিত হবে।১৮০০ সালে রানী ভিক্টোরিয়া প্রকাশ্যে এই লিপস্টিকের বিরোধিতা করেন।

এত সমালোচনার পরও চলচ্চিত্রের কল্যাণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর লিপস্টিক আরো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। লিপস্টিকের আকার হয় মোম দন্ডের ন্যায়। এটা তৈরীতে বিশেষ উপাদান হল জলপাই, খনিজ, রেড়ির তৈল, কোকোয়া বাটার, পেট্রোলিয়াম এবং ভেড়ার চর্বি। এছাড়াও ভিটামিন-ই, এ্যলোভেরা, এমাইনো এসিড, সানস্ক্রিন, কোলাজেন এর সাথে বিভিন্ন রঙ মিশিয়ে আকার প্রদান করা হয়। বর্তমানে বহু রকম লিপস্টিক পাওয়া

যায়। সময়ের আবর্তনে লিপস্টিক ধারণ করে আধুনিক রূপ। ১৯৯০ সালে লিপ লাইনার এর আগমন ঘটে।ফেসবুকে আমি

 [ ভাল লাগলে পোস্ট এ  অবশ্যই লাইক দিবেন , লাইক দিলে আমাদের কোনো লাভ অথবা আমরা কোনো টাকা পয়সা পাই না, কিন্তু উৎসাহ পাই, তাই অবশ্যই লাইক দিবেন । ]

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s