স্ত্রীকে ভালোবাসুন সুখী হবেন

Posted: মার্চ 19, 2012 in না জানা ঘটনা, ভালবাসার টিপস

পৃথিবীর মাঝে সবচেয়ে মধুর সম্পর্ক হল স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক। অবশ্য এই সম্পর্কের মাঝে থাকতে হয় গভীর ভালোবাসা, সত্য সুন্দর ভালোবাসা। বিজ্ঞান বলে ভালোবাসাই একটি নারী ও একটি পুরুষের মাঝে হৃদয়ের অটুট বন্ধন তৈরি করে দেয়, তৈরি করে সাংসারিক বন্ধন। ভালোবাসা ব্যতীত কোনো সাংসারিক জীবন, দাম্পত্য জীবন কখনই সুখের হয় না। স্বামী ও স্ত্রী একে অন্যের পরিপূরক। একজনকে বাদ দিয়ে অন্যজন শূন্য ফাঁকা। একজনকে বাদ দিয়ে অন্যজনকে ভাবাই যায় না। যে কোনো সংসারেই সাবলীল ও মধুর আনন্দ বজায় রাখতে হলে দরকার দু’জন দু’জনার ঐকমত্য। অবশ্য এই ঐকমত্য সবসময় সর্বক্ষেত্রেই সমান হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। আসল কথা হল দু’জন দু’জনার সংসার জীবন কিভাবে সুখ সমৃদ্ধতায় ভরিয়ে তোলা যায়, কি করলে দু’জনার মাঝে মনের আদান-প্রদান চমৎকারভাবে অক্ষুণ্ন রাখা যায় সে ব্যাপারেই ঐকমত্য থাকার চেষ্টা করতে হয়।

একজন সুন্দর মনের সুন্দর গুণের অধিকারী স্ত্রী সংসারকে তার নিজের আলোয় আলোকিত করে তুলতে পারে, সাজিয়ে তুলতে পারে সংসার জীবনকে সুখের স্বর্গীয় বাগানের মতো করে। তবে এই কাজের জন্য দরকার প্রেমিক স্বামীর স্ত্রীর প্রতি ঐকান্তিক মায়া-মমতা ও সুগভীর ভালোবাসা। স্ত্রীকে স্বামীর বোঝার চেষ্টা করতে হবে বুঝতে হবে। মনে রাখবেন আপনার প্রিয়তমা স্ত্রীকে আপনি যত বেশি বুঝবেন তত বেশিই তার ভালোবাসা উপলব্ধি করতে পারবেন, তত বেশি সংসার জীবনে সুখী হতে সক্ষম হবেন। সুখ সবসময় নিজে থেকে এসে ধরা দেয় না তাকে ধরতে হয়, তৈরি করে নিতে হয় চমৎকার রূপে। তাই এজন্য স্বামী স্ত্রীর দু’জনার মাঝে থাকতে হয় প্রচুর আত্মবিশ্বাস ও বনিবনা এবং সুনিপণ ঝলমলে বিকশিত প্রগাঢ় ভালোবাসা।

স্ত্রীর কথা ও কাজকে গুরুত্ব দেয় বুদ্ধিমান ও রোমান্টিক স্বামীরা। তারা জানে যে, স্ত্রীকে হেয় করে দেখলে বা তার কথা বা কাজকে অবহেলা করলে কিংবা গুরুত্ব না দিলে তা কখনই মঙ্গল ডেকে আনবে না। আপনি আপনার দৈনন্দিন জীবনে আপনার স্ত্রীকে একজন সহধর্মিনী একজন খাঁটি বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে নিন। এতে করে সে আপনার প্রতি আরো বেশি আন্তরিক ও আরো বেশি সহানুভূতিশীল হয়ে উঠবে, হয়ে উঠবে বিশ্বস্ত জীবন সঙ্গিনী। মনোবিজ্ঞান বলে ছোট বড় যে কোনো ধরনের কাজ করার আগে নিজের স্ত্রীর সাথে তা খোলা মনে আলাপ আলোচনা বা পরামর্শ করে নিলে সে কাজে সুফল আসবে কর্ম উদ্দীপনা প্রস্ফুটিত হবে। হয়ত কোনো কাজের মধ্যে বা কোনো পদক্ষেপে ভুল লুকিয়ে আছে সে ভুলটি হয়ত আপনার স্ত্রী আপনাকে দেখিয়ে দিতে সাহায্য করতে পারে। এতে করে আপনি হয়ত আসন্ন অনেক উটকো ঝামেলা বা অবাঞ্চিত বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারেন বা তার জন্য আগেভাগেই মানসিকভাবে নিজেকে তৈরি করে রাখতে পারেন। এতে করে আপনার মন চাপমুক্ত হতে পারবে, টেনশন লাঘব হবে।

স্বামী-স্ত্রীর মিলিত ভালোবাসা মিলিত বুদ্ধি ও চিন্তা ভাবনার সমন্ব্বয়েই একটি ছোট সুখের সংসার জীবন গড়ে উঠতে পারে। আর স্ত্রীর ওপর কখনই অযথা রাগ করা উচিত নয়। কারণ অসুন্দর রাগ প্রিয়তমা স্ত্রীর সুন্দর আবেগ অনুভূতিকে দারুণভাবে নষ্ট করে দিতে পারে। এতে করে ঝরঝরে, সতেজ, প্রাণবন্ত মায়া-মমতাও একসময় পানসে হয়ে যেতে পারে। যা কিনা কখনই কারো কাম্য হওয়া উচিত নয়।

শেষ কথা

সাইকোলজিক্যাল সাইন্স বলে আপনি প্রেমিক স্বামী হিসেবে স্ত্রীর প্রতি আপনার মনের আবেগ-অনুভূতি, কামনা বাসনা, আকাক্ষা প্রকাশ করুন। তা শুধু নিজের মনের মধ্যেই লুকিয়ে রাখবেন না যেন। আপনি প্রতিদিনই আপনার আদরের প্রাণপ্রিয় স্ত্রীর প্রতি কথা বার্তা, গল্প গুজব, দুষ্টামি, আকার, ইঙ্গিত, সপর্শ, চুমো ইত্যাদি নানাভাবে আপনার ভালোবাসা প্রকাশ করুন। ছড়িয়ে- ছিটিয়ে দিন আপনার অন্তরের লুকানো অনুভূতি। তাকে জানান যে, আপনি তাকে কত বেশি ভালোবাসেন, কত বেশি ফিল করেন, কত তাকে একাকীত্ব মিস করেন।

সুযোগ পেলেই আপনার প্রিয়তমা স্ত্রীকে কাছে টেনে নিন, বুকে জড়িয়ে ধরে মিষ্টি করে একটা চুমো দিয়ে তাকে বলুন ‘জান! আমি যে তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি, তুমি তো আমার সব কিছু, তুমি নেই তো কিছুই নেই, তুমি আমার আত্মা আমার কলিজার টুকরা, আমার সাথী, আমার সুখ, আমার জীবন তুমি’।

দেখবেন আপনার আদরের স্ত্রীও আপনাকে অনুরূপভাবে বুকে জড়িয়ে ধরবে, আপনাকেও সে আদর ভরে প্রচুর মমতা দেবে, সুখ দেবে ভালোবেসে। আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে।

আর এভাবেই আপনাদের দু’জনার দুটি হৃদয় মাঝে ভালোবাসার সুখ শিহরণ ছড়িয়ে পড়বে। দুটি মন একাত্ব হবে, মিশে থাকবে জীবন ভর।

ফেসবুকে আমি

 [ ভাল লাগলে পোস্ট এ  অবশ্যই লাইক দিবেন , লাইক দিলে আমাদের কোনো লাভ অথবা আমরা কোনো টাকা পয়সা পাই না, কিন্তু উৎসাহ পাই, তাই অবশ্যই লাইক দিবেন । ]

Advertisements

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে।