ফেসবুকে বন্ধু

Posted: এপ্রিল 29, 2012 in না জানা ঘটনা, ফেসবুক টিপস, Top News

আজকের যুগে আড্ডাস্থল বটতলা বা উঠান-বারান্দা হারিয়ে গেছে। সরাসরি যোগাযোগের সুযোগও এখন সীমিত। তাই সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলো তৈরি হয় ও জনপ্রিয়তা পায়। তেমনি একটি সাইট ফেসবুক। এর মাধ্যমে প্রতিদিনই পরিচিত ও বন্ধুদের খবর নেওয়া যায় বা নিজের কথা শেয়ার করা যায়। নতুন বন্ধু-বান্ধব পাওয়া যায়; ভালো ও খারাপ খবর মুহূর্তের মধ্যে পেঁৗছানো যায়। কিন্তু ফেসবুক সঠিকভাবে ব্যবহার না করার কারণে অনেকে বাস্তবের নিকটজন বা বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে দূরে সরে যায়। ইন্টারনেট বা ফেসবুক আসক্তির ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করে ফেলে। আবার রাত জেগে ফেসবুক ব্যবহারের ফলে পরের দিনের কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটে। নকল বন্ধু বা প্রতারক বন্ধুর উদাহরণ তো ভূরিভূরি। শুধু ফেসবুকের পরিচিত হওয়া বন্ধুর দ্বারা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ফেসবুকের ভালো দিক ও খারাপ দিক উভয়টিই রয়েছে। তাহলে কি আমরা খারাপ দিকের ভয়ে ফেসবুক ব্যবহার থেকে বিরত থাকব বা সন্তানদের বিরত রাখার চেষ্টা করব। কিছু বিষয় যদি আমরা মাথায় রাখি তাহলে ফেসবুককে অনেক গঠনমূলকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।
হযদিও সবার উদ্দেশ্য আলাদা, তবুও ফেসবুকের প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সামাজিক নেটওয়ার্ক সৃষ্টি। কারণ বর্তমান জীবনে সফলতা আনতে হলে নেটওয়ার্ক শক্তিশালী থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য দরকার পরিচিত মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা। ফেসবুক সেটাকে সহজ করে দেয়।
হশুধু সুন্দর প্রোফাইল পিকচার বা আনকোরা নাম দেখে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো ঠিক নয় এবং একই সঙ্গে এ ধরনের রিকোয়েস্ট গ্রহণ করাও ঠিক নয়। বাস্তবে পরিচিত হলে বা চিনলে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো বা গ্রহণ করা উচিত। অপরিচিতদের বন্ধু হিসেবে সংযুক্ত করলে অনেক সময় হ্যাকিংসহ নানা ঝামেলায় পড়তে হতে পারে।
হফেসবুকে এমন কোনো তথ্য বা ছবি শেয়ার করা উচিত নয় যা ব্যক্তির ভাবমূর্তিকে নষ্ট করতে পারে। মনে রাখা দরকার ফেসবুকের পোস্টগুলো শুধু বর্তমানকেই প্রভাবিত করে তা নয় বরং অনেক বছর পরও এর প্রভাব থাকতে পারে। আজকে হয়তো ব্যবহারকারীর কোনো সামাজিক মর্যাদা নেই; কিন্তু কয়েক বছর পরে তো তার একটা সামাজিক মর্যাদা তৈরি হয়ে যেতে পারে, তখন তা তার জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ভবিষ্যতে কে কখন, কোথায় পেঁৗছে যাবে তা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়। সহজ কথায় দৈনিক পত্রিকায় যা ছাপলে আপনার কোনো ক্ষতি হবে না শুধু, তাই ফেসবুকে পোস্ট করা করুন।
হএমনকি কোনো বন্ধুর ওয়ালে এমন কিছু পোস্ট করা যাবে না যা অন্যদের মধ্যে বিরক্তি আনবে বা আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে। মনে রাখবেন বন্ধুর বন্ধু আপনার নিয়োগকর্তাও হতে পারে।
হনির্দিষ্ট সময়ের বেশি ফেসবুক বা ইন্টারনেট ব্যবহার করা উচিত নয়। অনেক সময় ‘আর কয়েক মিনিট’, ‘আর কয়েক মিনিট’ করে অথবা কিছুক্ষণ পর পর ফেসবুক ব্যবহার করার ফলে দিনের অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বাস্তবের কাজে মারাত্মক ক্ষতি হয়। তাই কখন ও কতক্ষণ ফেসবুক ব্যবহার করলে ক্ষতি হবে না তা ঠিক করে শুধু সেই সময়েই ব্যবহার করা উচিত।
হকোনো এপ্লিকেশন ব্যবহারের আসে সেই এপ্লিকেশনের শর্তগুলো ভালো করে পড়ে দেখা উচিত। অনেক সময় এপ্লিকেশনগুলো আপনার তথ্য ব্যবহার করে নিজেদের প্রচারণা চালায় বা আপনার হয়ে অন্যের ওয়ালে লেখা ও ছবি পোস্ট করে। যা আপনার ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
হবন্ধুকে জরুরি কোনো তথ্য ফেসবুকের মাধ্যমে না দিয়ে সরাসরি বা ফোনে দিতে হবে। তা না হলে যদি নির্দিষ্ট দিনে কেউ ফেসবুক ব্যবহার না করে তবে সে তথ্যটি পাবে না।
হসিকিউরিটি সেটিংস ভালোভাবে বুঝতে হবে এবং ব্যবহার শেষে সাবধানতার সঙ্গে লগ আউট করতে হবে। সাইবার ক্যাফে বা অবিশ্বস্ত ব্যক্তির কম্পিউটারে ফেসবুক ব্যবহার করা ঠিক নয়। কেননা এর ফলে আপনার একাউন্ট হ্যাক হওয়ার সুযোগ থাকে। হ্যাকার আপনার একাউন্ট ব্যবহার করে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে বা অন্যের ওয়ালে আপত্তিকর কথা বা ছবি দিয়ে দিতে পারে। যা বন্ধুত্বসহ আপনার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে।
আসুন আমরা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ককে শক্তিশালী করার জন্য, নিজেকে-সমাজকে গড়ার জন্য ও সমাজের খারাপ দিকগুলো দূর করার জন্য ফেসবুক ব্যবহার করি। আর সব অপব্যবহার রোধ করি। একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকুন, ভালো থাকুন। অনেক ভালো।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে।