‘ইনোসেন্স অব মুসলিমস’ ছবির নির্মাতার বিরুদ্ধে অভিনেত্রীর মামলা

Posted: সেপ্টেম্বর 27, 2012 in ইতিহাস, ইসলামিক, না জানা ঘটনা, Top News

সিন্ডি লি গার্সিয়াসিন্ডি লি গার্সিয়া

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অবমাননা করে নির্মিত ‘ইনোসেন্স অব মুসলিমস’ ছবির নির্মাতা ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টে মামলা করেছেন ওই ছবির অভিনেত্রী সিন্ডি লি গার্সিয়া।
মামলায় চলচ্চিত্রটির নির্মাতা হিসেবে মিসরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন এক খ্রিষ্টান ব্যক্তির কথা বলেছেন গার্সিয়া। তিনি এ-ও জানিয়েছেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করেন ওই ব্যক্তি। সম্প্রতি এক খবরে এমন তথ্য দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইসলামবিরোধী চলচ্চিত্র ‘ইনোসেন্স অব মুসলিমস’কে কেন্দ্র করে লিবিয়া, ইয়েমেন, মিসরসহ মুসলিম বিশ্বে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন মার্কিন অভিনেত্রী সিন্ডি লি গার্সিয়া। তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে—এমন অভিযোগে এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেস আদালতে চলচ্চিত্রটির প্রযোজক নাকোলা বাসেলি নাকোলার বিরুদ্ধে মামলা করেন গার্সিয়া। বিতর্কিত ওই চলচ্চিত্রের ভিডিও ফুটেজ পোস্ট করায় ভিডিও-শেয়ারিং ওয়েবসাইট ইউটিউবের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
১৯ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেস আদালতে দাখিল করা ১৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে গার্সিয়া দাবি করেন, মরু অভিযানের বিষয়বস্তু নিয়ে ‘ডেজার্ট ওয়ারিয়র’ চলচ্চিত্রের কথা বলে ইসলামবিরোধী এ চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে। শুটিংয়ের আগে বা পরে একটিবারের জন্যও বলা হয়নি, এতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে চিত্রিত করা হবে।
ওই চলচ্চিত্রে ব্যবহূত গার্সিয়ার কয়েকটি সংলাপ সম্পাদনার সময় পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে অন্য কাউকে দিয়ে সেই সংলাপগুলো ডাবিং করানো হয়। সম্পাদনার সময় এই পরিবর্তন এত সূক্ষ্মভাবে করা হয়েছে যে চলচ্চিত্রটি দেখার পর মনে হয়েছে, গার্সিয়া স্বপ্রণোদিত হয়েই ইসলামবিদ্বেষী ওই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
এভাবে প্রতারণা করায় প্রযোজক নাকোলা বাসেলি নাকোলার বিরুদ্ধে মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন গার্সিয়া। এর আগে ব্যাংকে প্রতারণার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করেছিলেন ৫৫ বছর বয়সী নাকোলা।
গার্সিয়া জানান, মিথ্যা অপবাদে জড়িয়ে তাঁর জীবন হুমকির মুখে। ইউটিউবে ওই চলচ্চিত্রের বিজ্ঞাপনচিত্র তুলে দেওয়ার পর মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয়েছে তাঁকে। মামলার আরজিতে ইউটিউবে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছিলেন গার্সিয়া। কিন্তু আদালত তাঁর পক্ষে রায় দেননি। মূলত, এ কারণেই সম্প্রতি ফেডারেল কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন গার্সিয়া।
প্রসঙ্গত, ‘ইনোসেন্স অব মুসলিমস’ চলচ্চিত্রের একটি বিজ্ঞাপনচিত্র ইউটিউবে তোলা হয়, যেখানে মুসলমানদের জন্য অবমাননা ও হেয়কর বিষয় চিত্রিত করা হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কোনো ধরনের চিত্র অঙ্কন বা তাঁর চেহারার উপস্থাপন মুসলমানদের কাছে নিষিদ্ধ। অথচ মুসলমানদের বিশ্বাসে আঘাত হানতে ওই চলচ্চিত্রে মহানবী (সা.)কে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
‘ইনোসেন্স অব মুসলিমস’ চলচ্চিত্রের খবর ছড়িয়ে পড়লে এশিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সহিংসতা শুরু হয়। সহিংসতার একপর্যায়ে লিবিয়ায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতসহ চারজন মার্কিন নাগরিক নিহত হন। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বিদেশি দূতাবাসেও হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ মুসলমানরা।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s