টাকার টুক-টাক

Posted: ফেব্রুয়ারি 19, 2013 in না জানা ঘটনা, Top News

Jal-takaঝালকাঠির আলাল বন্ধুত্বের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আবার সুনামগঞ্জের সুজন বান্ধবী খুঁজছেন বন্ধুত্বের জন্য। এ দু’জনের প্রথমজন মানে আলাল বন্ধুত্বের আমন্ত্রণ জানিয়ে ৫ টাকার একটি নোটে তার ঠিকানা লিখে দিয়েছেন। আর পরেরজন অর্থাৎ সুজন বিশ টাকার নোটে বান্ধবী খুঁজছেন তার নিজের টেলিফোন নাম্বর লিখে দিয়ে।

বিভিন্ন অংকের নোটের উপর এ ধরনের লেখা প্রায়শই আমাদের চোখে পড়ে। যারা টাকার ওপর এমন বা অন্য যে কোন ধরনের লেখা লিখে থাকেন তাদের অনেকেই হয়তো জানেন না যে, এটা একটা অনৈতিক কাজ এবং এর মাধ্যমে তারা দেশের সম্পদ এবং অর্থের ক্ষতি সাধন করছেন।
অনেক সময় দেখা যায়, ব্যাংকের বা দাপ্তরিক নানান প্রয়োজনেও টাকার ওপর কেউ কেউ সংখ্যা লিখছেন, স্বাক্ষর দিচ্ছেন। তাদের জ্ঞাতার্থে বলতে হচ্ছে যে এ ধরনের লেখালেখিও কোনভাবেই কাম্য নয়। দাপ্তরিক প্রয়োজনে কোন কিছু লিখতে হলে বা সীল মোহর ব্যবহার করতে হলে তা ভিন্ন কাগজে ব্যবহার করতে হবে, কিন্তু কোন অবস্থাতেই নোটের গায়ে নয়।
আরও যে ধরনের লেখা টাকার ওপর প্রত্যক্ষ করা যায় সেগুলো হলো- পাত্রী খোঁজা, মনের ভাব প্রকাশ করা, কবিতা লেখা প্রভৃতি। অনেক সময় শত্র“তামূলক লেখাও কেউ কেউ টাকার ওপর লিখে থাকেন। যেমন বন্ধু চাই লিখে অন্য কারো ফোন নম্বর বা ঠিকানা লিখে থাকেন। যার ফোন নম্বর, ঠিকানা লিখে দেয়অ হলো তিনি হয়তো কিছুই জানেন না। কিন্তু বিষয়টা তাকে কতোটা বিব্রত করবে একবার ভেবে দেখুন ! টাকার ওপর লেখার জায়গা হিসেবে অনেকেই অপেক্ষাকৃত ফাঁকা বা সাদা অংশ অর্থাৎ জলছাপের অংশটুকুকে বেছে নেন, এতে বাহক তার টাকার আসল/নকল চেনার অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সেলিনা বলেন, টাকার ওপর এ ধরনের লেখালেখিটা যারা করে থাকেন তারা খুব সচেতনভাবেই করেন। তাই এদেরকে মানসিক রোগী হিসেবে বিবেচনা করার কোন অবকাশ নেই। তবে তিনি বলেন যে এক ধরনের মানসিক হতাশা থেকে নিম্নবিত্তের লোকজনরা এমন প্রবৃত্তির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন অর্থাৎ বন্ধুত্বের আমন্ত্রণ জানান, নিজের টেলিফোন নম্বর বা ঠিকানা লিখে দেন বা কখনও কখনও অন্যের ক্ষতি চিন্তুা করেও কিছু একটা লিখে দেন।
টাকার ওপর লেখালেখি হলে জলছাপ, অন্ধদের জন্য বিন্দু, লুকানো মুদ্রন, ইরিডিসেন্ট স্ট্রাইপ, অসমতল ছাপা, রং পরিবর্তনশীল ছাপা, নিরাপত্তা সূতা, উভয় দিক হতে দৃশ্যমান ছাপা, মাইক্রোপ্রিন্ট ইত্যাদি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্রসমূহ বিকৃত হয়। এতে যেমন নোটটি জাল না আসল তা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে তেমনি এর স্থায়িত্ব হ্রাস পায়। এত নোটের বিনিময় মূল্য প্রাপ্তির বিষয়টি নোটধারীর জন্য অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। যেহেতু এ ধরনের কার্যকলাপ হতে বিরত থাকর জন্র বাংলাদেশ ব্যাংক সবসময়ই অনুরোধ জানিয়ে আসছে। অবশ্য এ ধরনের লেখাযুক্ত টাকা জমা দিলে ব্যাংক গ্রাহককে সমমূল্যের টাকা প্রদান করে থাকে।
টাকার ওপর যে কোন ধরনের লেখালেখি থেকে বিরত রাখতে এবং নিরুৎসাহিত করতে সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে। এ ব্যাপারে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচার মাধ্যমগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি টাকা বা নোট আমাদের জাতীয় সম্পদ, কোনভাবেই তা বিনষ্টকরা যাবে না, এটাই হবে সচেতনতা সৃষ্টির মূল লক্ষ্য।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s