Archive for the ‘ইসলামিক’ Category


বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। সমস্থ প্রশংসা সেই মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন ও তাঁর হাজারও নিয়ামত দিয়ে আমাদের দুনিয়ায় কিছুটা সময় বসবাস করার তৌফিক দান করেছেন। আমরা সবাই বলি আলহামদুলিল্লাহ। যাকে সৃষ্টি না করা হলে আল্লাহ পাক আমাদের সৃষ্টি করতেন না, যার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা ইসলাম কে পরিপূর্ণ দ্বীন হিসাবে মনোনীত করেছেন, যিনি আমাদের মুক্তির এক মাত্র কাণ্ডারি যার সুপারিশ আমাদের উপর বিশেষ রহমত তিনি হযরত মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবাই বলি (সাঃ)। আসুন সবাই একবার কালেমা পাঠ করি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মদুর রসুলুল্লাহ” । অর্থ আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নাই, হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁহার প্রেরিত রাসুল।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁরই হুকুম পালন ইবাদত করার জন্য, আর প্রতিটি নেক আমলই ইবাদত, সুবহানাল্লাহ। ব্যবসা, বাণিজ্য, চলা-ফেরা, খাওয়া-দাওয়া কথা বলা ঘুমানো সবই ইবাদত হবে যখন আপনি এসব কাজ আল্লাহ তায়ালা নবী রাসূলদের দিয়ে যেভাবে আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন ও হাদিস কোরআন এ এসব বিষয় সম্পর্কে যেভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন ঠিক সে নিয়মে পালন করলে।

আল্লাহ তায়ালার সকল হুকুম পালন করা প্রতিটি মুসলিম নারী ও পুরুষের অবধারিত। অন্য সব হুকুম এর মধ্যে নামায এর গুরুত্ব অত্যাধিক। অবশ্যই আমাদের এই হুকুম অমান্য করা যাবে না। নবী করিম সাঃ যেভাবে নামায আদায় করেছেন ও তার সাহাবা গন দের যে ভাবে শিক্ষা দিয়েছেন আমাদের নামায যেন ঐ রুপ হয়। আল্লাহু আমাদের সে তৌফিক দান করুন। আমিন।

আমরা কিভাবে এই হুকুম এর সঠিক আমল করতে পারি তার জন্য তৈরি করা হয়েছে নামায শিক্ষা।  www.namaj.info এটি বাংলা নামায শিক্ষার ওয়েব সাইট। এখানে খুব সল্প পরিসরে দ্বান্দিক মাসায়েল এর আলোচনা না করে সহজ-সরলভাবে সংক্ষিপ্ত অথচ তথ্য সমৃদ্ধ আঙ্গিকে লেখা হয়েছে।


প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে বাড়ছে স্মার্টফোন ব্যবহার। মুহূতেই অনেক কাজ করে ফেলা যায় নতুন প্রযুক্তির এ ফোনের সাহায্যে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস ব্যবহার অনেক জটিল ও দূরহ বিষয়কেও সজহ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় তৈরি হয়েছে শিক্ষামূলক বিভিন্ন অ্যাপস। তেমনি একটি অ্যাপ নামাজ শিক্ষা।

মুসলিম ধর্মের এ অত্যাবশ্যকীয় ইবাদত প্রতিপালনের বিষয় স্মার্টফোনের মাধ্যমে শেখাতে বাংলা অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। নামাজ পড়ার নিয়মকানুন, নামাজের সময়, বিভিন্ন সূরা এবং দোয়া সম্পর্কে এতে তুলে ধরা হয়েছে।

imagesএক নজরে অ্যাপটির ফিচারগুলো
১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের (বিস্তারিত…)


বেশ কিছুদিন পূর্বে মহানবী (সঃ)-কে কটাক্ষ করে নির্মিত একটি ভিডিও আপলোড করার পরবর্তীতে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট, ইউটিউব বাংলাদেশে ব্লক করে দেয়া হয়েছে। যদিও ভিডিওটির বিষয় অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে ও ধর্মানুভুতিতে আঘাত হানতে বাধ্য, কেউ কি ভেবে দেখেছি বিষয়টির ফলাফল কি হতে পারে? ইউটিউবই কি একমাত্র ওয়েবসাইট যেখানে ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মমতের অবমাননা করা হয়? বাংলাদেশে কেন ইউটিউবের পক্ষ থেকে ভিডিওটিকে ব্লক করে দেয়া হয়নি? অন্য কোথাও কি এই ভিডিওটি পাওয়া যাবে না, ইউটিউব ছাড়া? এই প্রশ্নগুলো উত্তর দিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণাকে দূরীকরণের উদ্দেশ্যেই আমার এই লেখাটি।

ইউটিউব আসলে কি?

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আমার এলাকার কয়েকজন মুরুব্বি নামাজের পর চায়ের দোকানে বসে ইউটিউবের সমালোচনা করছিলেন, বেশ ভালোভাবেই! আমি তাদেরকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “আঙ্কেল, ইউটিউবে কি হয়েছে?” তাঁদের মতে ইউটিউব এমন একটি ওয়েবসাইট যেখানে শুধুই ইসলামকে অবমাননা করে ভিডিও আপলোড করা হয়! প্রযুক্তিবিষয়ক জ্ঞানের অভাবে এইসকল মানুষের মধ্যে এত বড় ভুল ধারণা কারা সৃষ্টি করেছে? আমরাই, যারা নিয়মিত প্রযুক্তি ব্যবহার করি।

ইউটিউবে কি আছে?

ইউটিউবে যে কেউ, যেকোন ভিডিও (গাইডলাইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে) আপলোড করে সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে শেয়ার করতে পারে। সেটি হতে পারে আপনার জন্মদিনের, বিয়ের বা বাচ্চার হাতেখড়ির অনুষ্ঠানের ভিডিও। ইউটিউব বর্তমানে শিক্ষার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

বাংলাদেশে বংশোদ্ভূত সালমান খানের প্রচেষ্টার ফসল Khan Academy ইউটিউবে তাদের পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, জীববিজ্ঞান, ক্যালকুলাস, পরিসংখ্যান, অর্থনীতি প্রভৃতি বিষয়ক অত্যন্ত আকর্ষণীয় ভিডিও লেকচার সংরক্ষণ করেন। বিশ্বের মিলিয়ন-মিলিয়ন শিক্ষার্থী এসকল ভিডিও দেখে কঠিন পাঠগুলো সহজেই আয়ত্ত করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে আমার কথা বলতে পারি। নবম শ্রেণিতে ওঠার পর প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় রসায়নে খুবই খারাপ ফলাফল করেছিলাম, বইয়ের বিষয়বস্তু না বোঝার দরুন। খান অ্যাকাডেমীর ভিডিও দেখে বিষয়টি আমি পুরপুরি আয়ত্ত করতে পারি এবং পরবর্তীতে ক্রমে ভালো ফলাফলের দিকে অগ্রসর হই।

আপনি সম্ভবত ড. জাকির নায়েকের মত বেশ কয়েকজন ইসলামবিদের নাম শুনেছেন। তাদের লেকচারগুলোর ভিডিও কিন্তু ইউটিউবে দেখা যায়। কুরআনের তিলাওয়াত, ইসলামী জীবনযাপন সংক্রান্ত ভিডিও, সবই পাবেন ইউটিউবে। মজার বিষয়টা খেয়াল করেছেন কি? ছবিতে দেখুন, কেবল জাকির নায়েকের লেকচারের ভিডিওই রয়েছে ৬৩,০০০ এর উপরে! ইউটিউব ইসলামিক কন্টেন্টে কতটা রিচ তা আপনার কল্পনার বাইরে! অবশ্য, এখন আর দেখবেনই বা কি করে, ইউটিউব তো বন্ধই করে দিয়েছে সরকার।

ফ্রীল্যান্সার এবং প্রযুক্তি বিষয়ক ক্যারিয়ার গঠনে আগ্রহীদের তীর্থস্থান হল ইউটিউব। সুন্দর সব ভিডিও টিউটোরিয়ালের মাধ্য দিয়ে প্রযুক্তি জটিল সকল বিষয় সহজেই বুঝিয়ে দেয়া হয় এ সকল ভিডিওতে। ওয়েবসাইট তৈরি, প্রোগ্রামিং করা, গ্রাফিক্স এডিটিং, কম্পিউটার সারাই কি নেই এখানে! কিন্তু, এত জ্ঞানের ভাণ্ডার থেকে আজ আমরা বঞ্চিত। তাছাড়া, ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে যেসকল ফ্রীল্যান্সার আয় করতেন, তাদের আজ কি অবস্থা?

আপনি কোন মুভি, নাটক বা গান চান? সেটিও আছে ইউটিউবে। শরীর ফিট রাখার জন্য ব্যায়াম শিখতে চান? তা শিখানোর জন্যও আছে ভিডিও টিউটোরিয়াল! কি নেই এখানে? বিনোদন, শিক্ষা ও মানুষের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউটিউব।

যত দোষ ইউটিউব ঘোষ

যদি আপনি মনে করেন ইন্টারনেটে কেবল ইউটিউবেই ইসলামকে অবমাননা করা হয়, তবে আপনি প্রকৃতপক্ষে অন্ধকার ঘরে বন্দি। কেননা, ইসলামকে অবমাননা করে অধিকাংশ কন্টেন্ট, আমি বলবো প্রায় সকল কন্টেন্টর উৎসই ফেসবুক। গুগল+ নয়, টুইটার নয়, ফেসবুকই। মহানবী, ইসলামকে ব্যাঙ্গ করে নির্মিত পেজের সংখ্যা হয়তো আমার এই আর্টিকেলের বর্ণের সংখ্যার চেয়েও বেশি। কিন্তু, দোষ কেন শুধু ইউটিউবের? ফেসবুকের শত শত পেজগুলোর কি কোন দোষ নেই? তাদের অবমাননা অপরাধ নয়? ইউটিউব সাধারণ মানুষের শিক্ষা, বিনোদন ও উপার্জনের স্থান। এটিই কি ইউটিউবের একমাত্র দোষ? আমি সঙ্গত কারণেই ফেসবুকপেজের লিংকগুলো দিচ্ছি না, সামান্য খোঁজ করলেই আপনারা এগুলো পেয়ে যাবেন। ফেসবুক পেজগুলো পার পেয়ে যাবে আর একটা ভিডিওর জন্য পুরো ইউটিউব বন্ধ হয়ে যাবে?

ভিডিওটি এখন আর কোথাই কি নেই?

আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি, ভিডিওটি কেবল ইউটিউবেই সীমাবদ্ধ নেই। Blip.TV, Vimeo, Metacafe, Facebook, Dailymotion প্রভৃতি সাইটে এই ভিডিও ভাইরাসের মত ছড়িয়ে পড়েছে। লাভ হল কি ইউটিউব বন্ধ করে? (আবারও সঙ্গত কারণেই লিংক দিচ্ছি না)

সময় স্বল্পতার কারণে আমার লেখা সম্পূর্ণ করতে পারলাম না, আপনারাই ভেবে দেখুন, ইউটিউব ব্লক করা কতটা যুক্তিযুক্ত? ইউটিউব যে বন্ধ হল, এর জন্য ক্ষতির শিকার হচ্ছি আমরাই। গোটা বিশ্বের তুলনায় আমাদের ছোট্ট দেশটি থেকে পাওয়া ভিজিটর তাদের কাছে খুবই নগণ্য। ইউটিউব দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ হয়ে আছে, এমন অবস্থা চলতে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে, কমবে না। কি দোষ করেছিল সে শিক্ষার্থীটি যে খান একাডেমির ভিডিও না দেখতে পেরে গাইড কিনে নিজের মস্তিষ্ক বিক্রি করে দিয়েছে? কিংবা সে ওয়েব ডেভেলপারের, যে জ্যাঙ্গো শিখতে না পেরে একটি প্রজেক্টই বাতিল করে দেয়?

সৃষ্টিকর্তা বৈপরিত্যের মধ্য দিয়েই বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। সবকিছুরই ভালো ও মন্দ দিক উপস্থিত, ইউটিউবও তার ব্যতিক্রম নয়। অতএব, মন্দ দিকটা না ধরে ভালো দিকের প্রতি আকৃষ্ট হবাই বুদ্ধিমানের কাজ! ইউটিউব বন্ধ করা মোটেও সন্তোষজনক পদক্ষেপ নয়। ইউটিউব বন্ধ করার এক অর্থ হল তথ্যের উন্মুক্ত প্রবাহ হতে আমাদের দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা। আমরা চাই যথাদ্রুত সম্ভব ইউটিউব ও গুগলের অন্যান্য ব্লক হয়ে যাওয়া পরিষেবা আমাদের মাঝে ফিরে আসুক।


TECHSPACE BD ’র সকল পাঠক, লেখক, শুভানুধ্যায়ীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

 


আমরা অনেকেই জানি টিয়া পাখি, ময়না পাখি, তোতা পাখি মানুষের কণ্ঠে কথা বলতে পারে। মানুষের নাম ধরে ডাকে কিন্তু কখনো কি শুনেছি মেরগের কণ্ঠের ডাক?

এমন ঘটনা অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি। তবে মানুষের নাম ধরে না ডেকে মোরগটি ডাকছে আমাদের মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নাম ধরে।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পানিহার গ্রামের মো. মোর্ত্তজার বাড়িতে। আর এ ঘটনায় সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল ও সাড়া জাগিয়েছে।

এমন ঘটনায় মঙ্গলবার সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, পানিহার গ্রামে মো. মোর্ত্তজার উঠানে দূর-দূরান্ত হতে ছুটে আসা অনেক লোক ভিড় জমিয়েছে।

এরই ফাঁকে কথা হয় মো. মোর্ত্তজার সঙ্গে তিনি জানান, আমার ২০টি মুরগি আছে কিন্তু সব মুরগী খাঁচায় রাতের বেলা থাকে না ।

১০-১২টি মুরগী বাড়ীর আঙ্গিনার ডালিম গাছে থাকে আগামি কাল ঈদ তাই মাংশ খাবার জন্য জবাই করার উদ্দেশে রোববার সন্ধার পর মোরগটিকে গাছ থেকে ধরি। ধরার পর মোরগটি ডাকতে থাকে।

প্রথমে আল্লাহ আল্লাহ ডাকছে মনে হলেও তেমন গুরুত্ব দেয়নি, কিন্তু অনবরত ডাকতে থাকায় মোর্ত্তজা ডাকটি শোনার জন্য তার স্ত্রী শিউলি বেগমকে ডাক দেয় এবং ডাকটি ভালোভাবে শোনার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে যায়।

মোরগটি একটানা প্রায় ২ ঘন্ট‍া ডেকেছে এবং এ পবিত্র আল্লাহ ডাকটি মোবাইল ফোনে রেকডিং করেছে তার ছেলে রুবেল।

মোরগটির বয়স ৮ মাস হবে বলে মোর্ত্তজার স্ত্রী শিউলি জানান।

শিউলি বেগম আরও জানান, এমন ঘটনা ব্যাপক জানাজানি হয়ে গেলে অনেকেই মোরগটি কেনার জন্য আসছে।

তিনি জানান নাটোরের এক ব্যাক্তি কেনার জন্য ২০ হাজার টাকা দাম বলেছে কিন্তু শিউলি বেগম মোরগটি আর বিক্রি ও জবাই করতে চায় না। তিনি আর সব অন্য মুরগির সঙ্গে এ মোরগটিকেও পুষতে চান।

এমন অলৈকিক ঘটনায় অনেক মানুষ দূর-দূরান্ত হতে মোরগটিকে এক নজর দেখার জন্য এবং আল্লাহর ডাকটি শোনবার জন্য মো. মোর্ত্তজার বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে । আপনি নিজেও দেখে আসতে পারেন।

downlode এখানে ক্লিক করুন   morog ar konta Allah dak 

ভিডিও LINK http://www.mediafire.com/?qgw2n2vgvn7nl9j

সুবাহান আল্লাহ । অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন । আল্লাহতাআলা আপনের ভাল করবে ।


সিন্ডি লি গার্সিয়াসিন্ডি লি গার্সিয়া

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অবমাননা করে নির্মিত ‘ইনোসেন্স অব মুসলিমস’ ছবির নির্মাতা ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টে মামলা করেছেন ওই ছবির অভিনেত্রী সিন্ডি লি গার্সিয়া।
মামলায় চলচ্চিত্রটির নির্মাতা হিসেবে মিসরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন এক খ্রিষ্টান ব্যক্তির কথা বলেছেন গার্সিয়া। তিনি এ-ও জানিয়েছেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করেন ওই ব্যক্তি। সম্প্রতি এক খবরে এমন তথ্য দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইসলামবিরোধী চলচ্চিত্র ‘ইনোসেন্স অব মুসলিমস’কে কেন্দ্র করে লিবিয়া, ইয়েমেন, মিসরসহ মুসলিম বিশ্বে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন মার্কিন অভিনেত্রী সিন্ডি লি গার্সিয়া। তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে—এমন অভিযোগে এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেস আদালতে চলচ্চিত্রটির প্রযোজক নাকোলা বাসেলি নাকোলার বিরুদ্ধে মামলা করেন গার্সিয়া। বিতর্কিত ওই চলচ্চিত্রের ভিডিও ফুটেজ পোস্ট করায় ভিডিও-শেয়ারিং ওয়েবসাইট ইউটিউবের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
১৯ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেস আদালতে দাখিল করা ১৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে গার্সিয়া দাবি করেন, মরু অভিযানের বিষয়বস্তু নিয়ে ‘ডেজার্ট ওয়ারিয়র’ চলচ্চিত্রের কথা বলে ইসলামবিরোধী এ চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে। শুটিংয়ের আগে বা পরে একটিবারের জন্যও বলা হয়নি, এতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে চিত্রিত করা হবে।
ওই চলচ্চিত্রে ব্যবহূত গার্সিয়ার কয়েকটি সংলাপ সম্পাদনার সময় পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে অন্য কাউকে দিয়ে সেই সংলাপগুলো ডাবিং করানো হয়। সম্পাদনার সময় এই পরিবর্তন এত সূক্ষ্মভাবে করা হয়েছে যে চলচ্চিত্রটি দেখার পর মনে হয়েছে, গার্সিয়া স্বপ্রণোদিত হয়েই ইসলামবিদ্বেষী ওই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
এভাবে প্রতারণা করায় প্রযোজক নাকোলা বাসেলি নাকোলার বিরুদ্ধে মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন গার্সিয়া। এর আগে ব্যাংকে প্রতারণার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করেছিলেন ৫৫ বছর বয়সী নাকোলা।
গার্সিয়া জানান, মিথ্যা অপবাদে জড়িয়ে তাঁর জীবন হুমকির মুখে। ইউটিউবে ওই চলচ্চিত্রের বিজ্ঞাপনচিত্র তুলে দেওয়ার পর মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয়েছে তাঁকে। মামলার আরজিতে ইউটিউবে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছিলেন গার্সিয়া। কিন্তু আদালত তাঁর পক্ষে রায় দেননি। মূলত, এ কারণেই সম্প্রতি ফেডারেল কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন গার্সিয়া।
প্রসঙ্গত, ‘ইনোসেন্স অব মুসলিমস’ চলচ্চিত্রের একটি বিজ্ঞাপনচিত্র ইউটিউবে তোলা হয়, যেখানে মুসলমানদের জন্য অবমাননা ও হেয়কর বিষয় চিত্রিত করা হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কোনো ধরনের চিত্র অঙ্কন বা তাঁর চেহারার উপস্থাপন মুসলমানদের কাছে নিষিদ্ধ। অথচ মুসলমানদের বিশ্বাসে আঘাত হানতে ওই চলচ্চিত্রে মহানবী (সা.)কে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
‘ইনোসেন্স অব মুসলিমস’ চলচ্চিত্রের খবর ছড়িয়ে পড়লে এশিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সহিংসতা শুরু হয়। সহিংসতার একপর্যায়ে লিবিয়ায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতসহ চারজন মার্কিন নাগরিক নিহত হন। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বিদেশি দূতাবাসেও হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ মুসলমানরা।


এ কেমন কথা! মহিলাদের খৎনা হয় কেমন করে?। তাদের যৌনাঙ্গে এমন কিছু কি আছে যা কেটে ফেলা দরকার?—অনেকেই এই প্রশ্ন করবেন। এর সোজা উত্তর হল: হ্যাঁ, মহিলাদেরও খৎনা করতে হবে—এটাই ইসলামী আইন। ঘুরে আসুন মিশর—দেখবেন প্রায় সমস্ত মহিলাই সেখানে খৎনা করা যদিও মিশরীয় সরকার দাবী করে যে এই প্রথার বিরুদ্ধে আইন আছে। কিন্তু কে শোনে যুক্তি, বিজ্ঞান বা আইনের কথা! ঘুরে আসুন ইন্দোনেশিয়া, পৃথিবীর সর্ব-বৃহত্তম ইসলামিক রাষ্ট্র—সেখানে দেখবেন শতকরা নব্বইজন মহিলা খৎনার শিকার। এই একই অবস্থা মালয়েশিয়াতে। তা হলে বাংলাদেশে কি হচ্ছে? খুব সম্ভবত: বাংলাদেশে এই বর্বর বেদুঈন প্রথা নাই। অথবা থাকলেও অত্যন্ত গোপনে তা করা হয়। আর এও হতে পারে যে বাংলাদেশে যে শারিয়া আইন চালু আছে তা হানাফি আইন। সুন্নিদের মধ্যে হানাফি আইনই একটু কম বর্বরোচিত। হানাফি আইন মতে মেয়েদের খৎনা করা বাধ্যতামূলক নয়। তাই আমাদের মহিলাদের কিছু রক্ষা।

প্রশ্ন হতে পারে কেন মেয়েদের খৎনা করা হবে—ইসলামী আইন অনুযায়ী? এর সরাসরি উত্তর হবে মেয়েদের যৌন উত্তেজনাকে প্রশমিত করার জন্য। তা না করলে যে পুরুষদের সর্বনাশ হয়ে যাবে। পুরুষরা যে পারবে না মেয়েদের যৌন ক্ষুধার চাহিদা মিটাতে। এই সব বর্বর প্রথাকে সভ্যতার প্রলেপ দিতে অনেক ইসলামী জ্ঞানীরা বলে বেড়াচ্ছেন যে মেয়েদের খৎনা নাকি তাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভাল। কি ডাহা মিথ্যা কথা। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান মুফতিকে (উনার নাম খুব সম্ভবত: ফেহমী) একবার এক কাফের মহিলা সাংবাদিক জিজ্ঞাসা করল: কেন মুসলিম মেয়েদের খৎনা করা হয়? মুফতি ফেহমি সৎ উত্তর দিলেন। তিনি বললেন সাধারণত: উষ্ণ দেশের মেয়েদের যৌন তাড়না থাকে অনেক বেশী। তারপর ফেহমি ঐ মহিলা সাংবাদিকের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললেন: “তোমার হয়ত এর (মহিলা খৎনা) প্রয়োজন নাই; কিন্তু ঐ মহিলাদের আছে” আমি স্মৃতি থেকে এই ঘটানটি বললাম।



আলহামদুলিল্লাহ্ !শুনে খুশি হবেন যে আজ সকালে আমাদের প্রধানমন্ত্রী আল ক্বুরআনের www.quran.gov.bd ওয়েবসাইটটি উদ্বোধন করেছেন । ভালোই ওয়েবসাইটটা। তাঁর এই সুন্দর ও চমৎকার পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই। এটি আমাদের দেশের প্রথম ডিজিটাল কোরআন শরিফ যা রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশাল অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ ডিজিটাল কোরআন শরীফের ওয়েবসাইটটি উদ্বোধন করেন।

এ সময় তিনি বলেন, “সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের মানুষের কল্যাণে দেশের মানুষের আহার, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এ কাজগুলো যেনো করতে পারি সে দিকে নজর রেখেই অন্তত আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষের মৌলিক চাহিদা আমি পূরণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।”

প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশের উন্নয়ন কর্মসূচিসহ সব ধর্মের মানুষের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। অসাম্প্রদায়িক হিসেবে জাতির ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রেখে জাতীয় উন্নয়নে সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে ধর্মীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

ই-বুক হিসেবে ইন্টারনেটে বা ডাউনলোড করেও এখন যেকোনো স্থান থেকেই পবিত্র কোরআন পড়া যাবে। শোনা যাবে তেলাওয়াত। এতে আরবি তেলাওয়াতের সঙ্গে বাংলায় তরজমাসহ বিভিন্ন ফিচারও রয়েছে।

মাহে রমজান বিষয়ক একটি পেজ । মাহে রমজান সম্পকে আরও জানতে পেজটি থেকে ঘুরে আসুন  দয়া করে
এডিয়ে যাবেননা, পেজটিতে কেউ জয়েন না করে  থাকলে জয়েন করুন  এখুনি । জয়েন করলে ক্ষতি হবে না বরং লাভ হবে । ♥
https://www.facebook.com/m.romjan

সবাই ভালো থাকবেন রমজানে সবার তরে সবাই দো’য়া করবেন যেন সবাই রমজানের সবগুলো রোজা সুস্থ শরীরে রোজার হক্ব আদায় ও তার সাথে  তারাবীর নামাজ পড়ার তৌফিক দান করুন (আমিন)।

আল্লাহ হাফেজ


প্রায় দেড় হাজার বছর আগে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:) এর পছন্দের ১২টি খাবার ও তাঁর গুণাবলী এখানে উল্লেখ করা হলো। এসব খাবার নবীজী (স:) আহার করতেন এবং দেড় হাজার বছর পর আজকের বিজ্ঞান গবেষণা করে দেখেছে নবীজী (স:) এর বিভিন্ন খাবারের গুণাগুণ ও উপাদান অত্যন্ত যথাযথ ও নির্ভুল, নিরঙ্কুশভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। নবীজী (স:) এর খাবারের মধ্যে রয়েছে বার্লি, খেজুর, ডুমুর, আঙ্গুর, মধু, তরমুজ, দুধ, মাশরুম, অলিভ অয়েল, ডালিম-বেদানা, ভিনেগার ও পানি। খাবারের গুণাবলী এখানে উল্লেখ করা হলো:এক: বার্লি (জাউ): এটা জ্বরের জন্য এবং পেটের পীড়ায় উপকারী।

দুই: খেজুর: খেজুরের গুণাগুণ ও খাদ্যশক্তি অপরিসীম। খেজুরের খাদ্যশক্তি ও খনিজ লবণের উপাদান শরীর সতেজ রাখে। নবীজী (স:) বলতেন, যে বাড়ীতে খেজুর নেই সে বাড়ীতে কোন খাবার নেই। এমনকি সন্তান প্রসবের পর প্রসূতি মাকে খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আল্লাহর নবী।

তিন: ফিগস বা ডুমুর: ডুমুর অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ভেষজগুণ সম্পন্ন যাদের পাইলস ও কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তাদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী খাবার।

চার: আঙ্গুর: নবীজী (স:) আঙ্গুর খেতে অত্যন্ত ভাল বাসতেন। আঙ্গুরের পুষ্টিগুণ ও খাদ্যগুণ অপরিসীম। এই খাবারের উচ্চ খাদ্য শক্তির কারণে এটা থেকে আমরা তাত্ক্ষণিক এনার্জি পাই এবং এটা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আঙ্গুর কিডনির জন্য উপকারী এবং বাওয়েল মুভমেন্টে সহায়ক। যাদের আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম আছে তারা খেতে পারেন।

পাঁচ: মধু- মধুর নানা পুষ্টিগুণ ও ভেষজ গুণ রয়েছে। মধুকে বলা হয় খাবার, পানীয় ও ওষুধের সেরা। হালকা গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে মধু পান ডায়রিয়ার জন্য ভালো। খাবারে অরুচি, পাকস্থলীর সমস্যা, হেয়ার কন্ডিশনার ও মাউথ ওয়াশ হিসেবে উপকারী।

ছয়: তরমুজ- সব ধরনের তরমুজ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। নবীজী (স:) তরমুজ আহারকে গুরুত্ব দিতেন। যেসব গর্ভবতী মায়েরা তরমুজ আহার করেন তাদের সন্তান প্রসব সহজ হয়। তরমুজের পুষ্টি, খাদ্য ও ভেষজগুণ এখন সর্বজনবিদিত ও বৈজ্ঞানিক সত্য।

সাত: দুধ- দুধের খাদ্যগুণ, পুষ্টিগুণ ও ভেষজগুণ বর্ণনাতীত। দেড় হাজার বছর আগে বিজ্ঞান যখন অন্ধকারে তখন নবীজী (স:) দুধ সম্পর্কে বলেন, দুধ হার্টের জন্য ভালো। দুধ পানে মেরুদন্ড সবল হয়, মস্তিষ্ক সুগঠিত হয় এবং দৃষ্টিশক্তি ও স্মৃতিশক্তি প্রখর হয়। আজকের বিজ্ঞানীরাও দুধকে আদর্শ খাবার হিসেবে দেখেন এবং এর ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি অস্থিগঠনে সহায়ক।

আট: মাশরুম- আজ বিশ্বজুড়ে মাশরুম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার এবং মাশরুম নিয়ে চলছে নানা গবেষণা। অথচ দেড় হাজার বছর আগে নবীজী (স:) মাশরুম চোখের জন্য ভালো এবং এটা বার্থ কন্ট্রোলে সহায়ক এবং মাশরুমের ভেষজগুণের কারণে এটা নার্ভ শক্ত করে এবং শরীর প্যারালাইসিস বা অকেজো হওয়ার প্রক্রিয়া রোধ করে।

নয়: অলিভ অয়েল: অলিভ অয়েলের খাদ্য ও পুষ্টিগুণ বহুমুখী। তবে আজ মানুষের ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষা ও বয়স ধরে রাখার জন্য যারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছেন তাদের দেড় হাজার বছর আগে নবীজী (স:) অলিভ অয়েল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে অলিভ অয়েল ত্বক ও চুলের জন্য ভালো এবং বয়স ধরে রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক বা বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করে। এছাড়া অলিভ অয়েল পাকস্থলীর প্রদাহ নিরাময়ে সহায়ক।

দশ: ডালিম-বেদানা: বেদানার পুষ্টিগুণ ও খাদ্যগুণের পাশাপাশি এটার ধর্মীয় একটি দিক আছে এবং নবীজী (স:) বলতেন, এটা আহারকারীদের শয়তান ও মন্দ চিন্তা থেকে বিরত রাখে।

এগার: ভিনেগার- ভিনেগারের ভেষজ গুণ ও খাদ্যগুণ অপরিসীম। নবীজী (স:) অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ভিনেগার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অথচ আজকের এই মডার্ন ও বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব সাফল্যের যুগে বিশ্বের বড় বড় নামি-দামি রেস্টুরেন্ট বিশেষ করে এলিট ইটালিয়ান রেস্টুরেন্টে অভিল অয়েল ও ভিনেগার এক সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়।

বার: খাবার পানি: পানির অপর নাম জীবন। পানির ভেষজগুণ অপরিসীম। দেড় হাজার বছর আগে নবীজী (স:) পানিকে পৃথিবীর সেরা ড্রিংক বা পানীয় হিসাবে উল্লেখ করেছেন। সৌন্দর্য চর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য রক্ষায় চিকিত্সা বিজ্ঞানীরা আজ প্রচুর পানি পান করতে বলেন।


খাৎনা বা মুসলমানী কি?:

পুরুষাঙ্গের সামনের বা মাথার দিকে যে অতিরিক্ত স্কীন পুরুষাঙ্গের সংবেদনশীল মাথাকে ঢেকে রাখে তা কর্তন করাকে বুঝায়।

খাৎনা বা মুসলমানী করার প্রয়োজনীয়তা: (ক) ধর্মীয় কারণে মুসলমান ও খ্রীষ্টানরা খৎনা করিয়ে থাকে।

(খ) ফাইমোসিস বা প্যারা ফাইমোসিস রোগ হলে খাৎনা বা মুসলমানী করাতে হয়।

ফাইমোসিস: ফাইমোসিস হলো পুরুষাঙ্গের মাথার দিকের চামড়া যদি এমনভাবে মুত্রনালীকে ঢেকে রাখে যে বাচ্চা বা রোগীর প্রশ্রাবের সময় মাথাটা ফুলে উঠে। এই ভাবে বেশিদিন চলতে থাকলে প্রশ্রাবে ইনফেকশন ও কিডনি ফেইলিওর হতে পারে।

প্যারা ফাইমোসিস: পুরুষাঙ্গের মাথার দিকের চামড়া উল্টে টাইট হয়ে যায়, যার ফলে চামড়াটাকে আর সামনে ও পিছনের দিকে নাড়াচাড়া করা যায় না। এক্ষেত্রে মাথার দিকে ফুলে যায় এবং রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এই উভয় ক্ষেত্রেই জরুরী ভিত্তিতে খাৎনা করা প্রয়োজন। আরো নানাবিধ কারণে খাৎনা দরকার হয় যেমন-পুরুষাঙ্গের চামড়া অনেক সময় পেন্টের চেইনের সাথে আটকে গেলে। রোগী চাইলেও যে কোন ধর্মাবলম্বী লোকের খৎনা করা হয়।

খাৎনা বা মুসলমানী করালে কি উপকারীতা: পুরাষাঙ্গের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়। পুরুষাঙ্গের ক্যান্সার মুসলমান ও খ্রীষ্টানদের মধ্যে নাই বললেই চলে। তার প্রধান কারণ খাৎনা। পুরুষাঙ্গের মাথার বাড়তি চামড়ার নীচে সাদা এক ধরনের পদার্থ (স্মেগমা) জমে এবং এই স্মেগমাই পুরুষাঙ্গের ক্যান্সার এর জন্য দায়ী।

কখন খাৎনা করা যাবে না: হাইপোষ- পেডিয়াসিস রোগ। এটা পুরুষাঙ্গের জন্মগত ত্রুটি। এখানে মনে হবে বাচ্চা জন্মগতভাবে খাৎনা হয়ে এসেছে। এই ক্ষেত্রে পুরুষাঙ্গের বাড়তি চামড়া এই জন্মগত ক্রটি মেরামতের সময় প্রয়োজন হয়। তাই খাৎনা করানো নিষেধ।

খাৎনা করার পূর্বে রক্তপরীক্ষা করার প্রয়োজন আছে কি?: অবশ্যই আছে। খাৎনার পর কিছু খাৎনার রোগীর বিস্নডিং বন্ধ হয় না এবং মরণাপন্ন অবস্থায় আমাদের কাছে হাজামরা পাঠায়। তাই খাৎনার পূর্বে বাচ্চার অবশ্যই রক্তক্ষরণজনীত সমস্যা (জন্মগত) আছে কি না তা দেখে নিতে হবে।

খাৎনা করার পর কি কি জটীলতা দেখা দিতে পারে:

০০ রক্ত ক্ষরণ বন্ধ না হওয়া

০০ হাজাম বা অনভিজ্ঞতার কারণে অতিরিক্ত বা কম চামড়া কেটে ফেলা

০০ পুরুষাঙ্গের সংবেদনশীল মাথা কেটে ফেলা। হাজমরা খাৎনা করে বস্নাইন্ডলি অর্থাৎ মাথার অগ্রভাগে চামড়া মাথা থেকে সঠিকমত না ছাড়িয়ে না দেখে কেটে ফেলতে গিয়ে এই ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে থাকে।

ইংল্যান্ড সহ পৃথিবীর সমস্ত দেশে এই খাৎনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয় এবং খাৎনা কনসালটেন্ট সার্জন ছাড়া করা হয় না। কারণ খাৎনা করতে গিয়ে যে কোন দূর্ঘটনা বাচ্চার ভবিষ্যৎ জীবন জটীল করে তুলতে পারে।

০০ ডা: এম এ হাসেম ভূঁঞা, অধ্যাপক সার্জারী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল


আসসালামু আলাইকুম, আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন, ভালো থাকেন সেই কামনাই করি। আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো রমজান’12 সালের একটি সময় সুচি:

উপরের যে সিডিউলটি দিয়েছি তা ঢাকার জেলার  । অন্য  জেলার দরকার হলে  এখানে ক্লিক করে   অথবা  http://ramadantiming.com/ramadan-calendar-for-dhaka-2012-with-sahr-and-iftar-time-schedule/    এর পর নিচের ছবির মত করুন।

মাহে রমজান বিষয়ক একটি পেজ । মাহে রমজান সম্পকে আরও জানতে পেজটি থেকে ঘুরে আসুন  দয়া করে
এডিয়ে যাবেননা, পেজটিতে কেউ জয়েন না করে  থাকলে জয়েন করুন  এখুনি । জয়েন করলে ক্ষতি হবে না বরং লাভ হবে । ♥
https://www.facebook.com/m.romjan

সবাই ভালো থাকবেন রমজানে সবার তরে সবাই দো’য়া করবেন যেন সবাই রমজানের সবগুলো রোজা সুস্থ শরীরে রোজার হক্ব আদায় ও তার সাথে  তারাবীর নামাজ পড়ার তৌফিক দান করুন (আমিন)।

আল্লাহ হাফেজ


আজ একটা পোষ্ট পড়লাম। পোষ্টটি পড়ে অনেক খারাপ লাগল। তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।

———————————————————————————————————–
জানি সময় একটু বেশি লাগেব। কিন্তু কথা  দিচ্ছি , পুরাটা পড়েল আপনার-ও খারাপ লাগেব। একটু হোলেও নিজেকে সংশোধন করা যাবে। (মুসলমানদের জন্য্)
================================================================

২০১২ সালের ২১শে ডিসেম্বর পৃথিবীতে নেমে আসতে পারে এক মহাবিপর্যয়। তারও আগে ২০১২ সালেরই ৩ আগস্ট সারা পৃথিবীতে ৩টি ভয়াবহ ভূমিকম্পের সাম্ভাবনা রয়েছে।

২০১২ সালের পক্ষে ও বিপক্ষে অনেক ধরনের যুক্তি পাওয়া যায়। যদিও এর পক্ষের যুক্তির পরিমানটাই বেশী। আসুন নিচে দেখে নিই এর পক্ষের ও বিপক্ষের যুক্তিগুলো।

ইসলাম যেখানে একঈশ্বর এবং সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সত্যতাতে বিশ্বাস করতে হয় সেখানে বস্তুবাদ কিংবা ত্রিতত্ত্ববাদ (Trinity) কিংবা বহুঈশ্বরবাদ এর কোনো স্থান নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান।

আমি এখানে আগে মায়ান এবং বর্তমান সম্পর্কে কিছু বলব. তা না হলে ২০১২ নিয়ে স্পষ্ট ধারনা পাওয়া যাবে না।

পৃথিবীতে বরফ যুগের ম্যামোথ থেকে শুরু করে ডাইনোসোর এরা প্রত্যেকেই ধ্বংস হয়েছে . পৃথিবীতে কোনো কিছুই স্থায়ী নয় এমনকি — আমরাও না।
২০১২ নিয়ে আমরা অনেকেই কমবেশ জানি। অনেকেই জানি সুপার হিট ফীল্ম 2012 এর কথা। কিন্তু এই ফীল্মও ২০১২ এর সতর্ক বাণী স্বরূপই তৈরী করা হয়েছিল যা কিনা পরে মুভী ইন্ড্রাস্ট্রিতে ফীল্ম হিসেবেই প্রকাশ পায়। 2012 এর তৈরির পিছনে মায়ান ক্যালেন্ডার এর ভূমিকা ছিল। মায়ান ক্যালেন্ডারে ২০১২ এর পর আর ২০১৩ আসে নি, তারা আবার ১, ২, ৩ এভাবে গুনে গিয়েছে। তারা ২০১২ এ বিশাল ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে যাতে কিনা সভ্যতার ধ্বংস হবে এবং নতুন সভ্যতার উত্থান হবে।

অনেকেই বলেন ২০১২ তে নাকি পৃথিবী ধ্বংস হবে. এটা একটা ভুল ধারনা। ২০১২ তে যদি কিছু হয় তাহলে বড় রকমের বিপর্যয় হতে পারে (আল্লাহ ভালো জানেন) যার ফলে পৃথিবীর ৯০% মানুষই মারা যাবে . মায়ানরা যেটা দেখেছিল তা ছিল একটি গ্রহ। তারা দেখেছিল এই বিশাল গ্রহটি তাদেরকে আচ্ছাদিত করছে. এর তুমুল গ্র্যাভিটেশনাল ফোর্স এর প্রভাবে সুনামি আঘাত হানার ফলে ওদের সভ্যতা ধ্বংস হল। তাই তারা এই গ্রহটির নাম দিয়েছিল নিবিরু(Nibiru) বা ধ্বংসকারী। খুব ছোট অংকের মাধ্যমে তারা গ্রহের আসা যাওয়ার গণনা করতে পারত। ওরা এতটাই উন্নত ছিল যে ওরা জানত পৃথিবীর কক্ষপথ অনেকটা গোলাকার। তারা আরো জানত পৃথিবীর সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরে আসতে ৩৬৫ দিন লাগে যা আমরা কয়েক শতক আগেও জানতাম না। ওদের মধ্যে যে কেউ ভবিষ্যত গণনা করতে পারত। স্বল্প সংখ্যক যারা বেচেছিল তারাই তাদের ভবিষ্যত গণনা করে বলেছিল এই নিবিরু আবার ২০১২ তে আসবে যার ফলে ভয়াবহ দুরঅবস্থার দেখা দিবে | অনেকে ধারনা করেন এই আদিম মায়ানরাই হল কুরআন এ বর্নিত নুহ নবীর উম্মত যাদেরকে আল্লাহ মহাপ্লাবন দ্বারা ধ্বংস করেছিলেন | যাই হোক এ নিয়ে বলতে শুরু করলে সারা দিন লেগে যাবে।

এখন আধুনিক সভ্যতার প্লানেট এক্স আবিষ্কার এবং নাসা আমেরিকা ইউরোপ এর ষড়যন্ত্রের কথা বলব. প্ল্যানেট এক্স (নিবিরু) জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ১৯৮৩ এর গোড়ার দিকে সৌর সিস্টেম এর বাহির এর দিকে আবিষ্কার করে। ১৯৮৩ সালে নাসার ইরাস (IRAS-ইনফ্রা অ্যাস্ট্রোনমিকাল উপগ্রহ) সৌরজগত এর শেষ দিকে বৃহষ্পতি এর মত বড় কিছুর উপস্থিতির কথা বলে | যা ১৯৮৩ এর টাইমস পত্রিকায় উল্লেখ করা হয়
সর্বপ্রথম ১৯৭২ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জোসেফ ব্র্যাডি আবিষ্কার করেন কোনো অপরিচিত গ্রহ (প্ল্যানেট এক্স) হ্যালির ধুমকেতুর কক্ষপথের মহাকর্ষিক সমস্যার কারণ। জোতির্বিজ্ঞানিদের গাণিতিক হিসাব এটা প্রমান করে যে, এই অপরিচিত গ্রহের ভর পৃথিবীর ৫ গুণ বেশি। এ সম্পর্কে মহাকাশ বিজ্ঞানী যেচারিয়া সিচিন (Zecharia Sitchin) এর একটি বক্তব্য না বললেই নয় ১৯৭৮ সালে তিনি বলেন, “আমাদের সৌরজগতে ৯টি গ্রহ নয় যা সর্বজন কর্তৃক গৃহীত বরং ১০ টি গ্রহ।”

এই বিশাল বস্তর কারণেই যে প্লুটো এর অরবিট পরিবর্তিত হয় এবং প্লুটো তার গ্রহের মর্যাদা হারায় পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা তা কোনো অজানা কারণে আংশিক প্রকাশ করেন (বর্তমানে প্লুটোকে Kuiper belt এর অংশ বলা হয়) অনেকে একে বাদামী তারা বলেছে, অনেকে বলেছেন ব্যর্থ তারা, অনেকে বলেছেন ধুমকেতু। অনেকে বলেছেন ১০তম গ্রহ অনেকে ১২তম গ্রহ। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হল এর ভর বৃহষ্পতির চেয়েও বেশী। এর অরবিটও অন্য ধরনের। এর এক অরবিট সম্পন্ন হয় প্রায় তিন হাজার ছয়শ বছরে। যদি এর আমাদের আরো তিন হাজার ছয়শ বছর আগে নুহ (আঃ) এসে থাকেন তাহলে এর পরের বার পৃথিবী ভ্রমন অতি নিকটেই। আমি আবারো বলছি যে এটি এর আগেও কখনো পৃথিবীর সাথে সংঘর্ষ করে নি এই বার আসলেও করবে না।

এর তুমুল গ্র্যাভিটির কারণেই পৃথিবীর নর্থ পোল আর সাউথ পোল ঘুরে যাবে ফলে সুর্য পশ্চিম দিকে উঠবে যা ইসলাম আমাদের ১৪০০ বছর আগেই বলে দিয়েছে। এর ফলে পৃথিবীর ৯০% মানুষ মারা যাবে বলে ধারণা করা হয় (আল্লাহই ভালো জানেন)। নর্থ পোল সাউথ পোল ইতিমধ্যে সরতে শুরু করেছে। ২০০৪ সালে সূর্যে বেশ কয়েকটি সৌরকলঙ্ক(Dark Spot) সৃষ্টি হয় এর ফলে যে সৌরঝড় (Sun Storm) এবং যে পরিমাণ রেডিয়েশন হয়েছিল তা আমাদের ম্যাগনেটিক পোলগুলো সহ্য করতে পারে নি। আর ঐ দিন পৃথিবীর সুমাত্রাতে ৯.২ রিকটার স্কেলের ভয়াবহ ভূমিকম্পসহ ভয়াবহ কয়েকটি ভূমিকম্প হয়েছিল, ঐ দিন ইন্দোনেশিয়াতে সুনামি হয়েছিল। এ থেকে বুঝা যায় সৌরকলঙ্কের সাথে পৃথিবীর ভূমিকম্পের সম্পর্ক রয়েছে। এই রেডিয়েশন আমাদের মাটির অভ্যন্তরের আন্দোলনকে সক্রিয় করে।

আসছে ২০১২ সবচেয়ে বেশি সৌরঝড় এর বছর |

এখন আমি আমেরিকার নাসার এবং ইউরোপ এর ষড়যন্ত্রের কথা বলব।

প্ল্যানেট এক্স আবিষ্কার এর পর নাসা ও ইসা(ESA- European Space Agency) প্রথমে নিবিরু এর সত্যিকারের ছবি প্রকাশ করলেও তারা এখন এ ব্যাপারে নিশ্চুপ।

এখন গুগল স্কাই এ নিবিরু তথা প্ল্যানেট এক্স এর অবস্থান কালো অংশ দিয়ে ঢাকা। যে কেউ দেখলে বুঝবে এখানে কিছু ছিল যা তারা দেখতে দিচ্ছেন। কেউ কি ভেবে দেখছেন ওরা কী লুকাতে চাচ্ছে ? ওরা এটা ভাবছে যে এটা জানালে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে কিন্তু ওরা না জানিয়ে আরো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে।

এখন আমেরিকা এবং বিভিন্ন এলাকার গোপন বাজেট এর কথা বল। আমেরিকা তাদের অনেক নিরাপদ জায়গায় আন্ডারগ্রাউন্ড বেস (যার সংখ্যা আনুমানিক ভাবে ১৩২ এর চেয়েও বেশী) বানাচ্ছে। নিরাপদ এই কারণে বললাম কারণ এই সকল এলাকায় ভূমিকম্প বা যেকোনো দূর্যোগ মুক্ত বলে তাদের ধারনা। (কিন্তু এখন এসব এলাকাতেও ভূমিকম্প হতে পারে) যেটি একটি গোপন প্রযেক্ট। এমনকি আমেরিকান মানুষদেরও সেখানে প্রবেশাধিকার নেই। এর নাম হলো ডামবস প্রযেক্ট (D.U.M.Bs.- Deep Underground Military Bases)।

এই বেস গুলোতে তারা পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার মজুদ রাখা সহ সেখানে বৈজ্ঞানিক ভাবে মাটির নিচে খাবার উত্পাদন করার ব্যবস্থা করেছে। এটি একটি সম্মিলিত প্রযেক্ট। বিভিন্ন উন্নত দেশ এর সাথে গোপন ভাবে যুক্ত। রাশিয়া-আমেরিকা চিরন্তন শত্রু হওয়া সত্ত্বেও ওরাও এটার সদস্য। সাথে আছে ইউরোপ এর বিভিন্ন দেশ।
ওরাই বলেছে “আমরা আসন্ন মহাদূর্যোগ এ সবাইকে বাঁচাতে পারব না, আমরা শুধু তাদেরকেই বাঁচাব যাদেরকে আমাদের দরকার ”। এমনকি SPT(south pole telescope) এর সব উপাত্ত গোপন রাখা হয়েছে.

এখন আমি পবিত্র আল কুরআন এর গাণিতিক কোড টার্ম ১৪৩৩(২০১২) এর কথা বলব সাথে ইমাম মাহদি আসার কিছু হাদীস বলব |

১৪৩৩ পবিত্র কুরআন এর ম্যাথম্যাটিকাল কোড

পবিত্র কুরআন এর ম্যাথম্যাটিকাল কোডের কথা বলতে হলে আগে আমাদের প্রাইম নাম্বার সম্পর্কে জানতে হবে। সবাই জানেন প্রাইম নাম্বার কি। যে সকল নাম্বার 1 এবং ঐ নাম্বার ছারা আর কোনো নাম্বার দিয়ে ভাগ যায় না তাদেরকে প্রাইম নাম্বার বলে। যেমন : ২,৩,৫,৭,১১,১৩,১৭,১৯,২৩… লক্ষ্য করুন এই ডিফারেন্স কিন্তু অনিয়মিত। আবার এক বিশেষ ধরনের প্রাইম নাম্বার আছে যাকে অ্যাডিটিভ প্রাইম নাম্বার বলা হয়। অ্যাডিটিভ প্রাইম নাম্বার সেই সকল বিশেষ প্রাইম নাম্বার যেগুলোর সংখ্যামানের যোগফলও প্রাইম নাম্বার হয়।

একটা উদাহরন দিলে ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে যেমন : ১১ একটি অ্যাডিটিভ প্রাইম নাম্বার | (১+১=২ | ২ একটি প্রাইম নাম্বার)। আল্লাহ তা আলা কুরআনেও এই সব নাম্বার ব্যবহার করেছেন। পবিত্র কুরআনের শুরুর সূরা ফাতিহাতে ৭ টি আয়াত, ২৯ টি শব্দ, ১৩৯ টি বর্ণ আছে যার সবগুলিই অ্যাডিটিভ প্রাইম নাম্বার। এমনকি এগুলোকে বাম দিক থেকে বা ডান দিক থেকে যেকোনো দিক থেকে এদের পাশাপাসি বসালে তাও অ্যাডিটিভ প্রাইম নাম্বার হয়।
|||৭২৯১৩৯ বা ১৩৯২৯৭ ||| ৭+২+৯+১+৩+৯=31 |||

পবিত্র কুরআনের অসংখ্য স্থানে অ্যাডিটিভ প্রাইম নাম্বার এর কথা বলা হয়েছে।

এখন আমি ২০১২ তে আসি :

পবিত্র কুরআনের সূরা আর-রহমান এ ৩১ বার বিভিন্ন আয়াতে “ফাবিআয়্যি আলা ইরাব্বিকু মা তুকাজ্জিবান” বলা হয়েছে। যার অর্থ “তোমরা (জ্বীন ও মানব জাতি) তোমার প্রতিপালকের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে”
১৩, ১৬, ১৮, ২১, ২৩, ২৫, ২৮, ৩০, ৩২, ৩৪, ৩৬, ৩৮, ৪০, ৪২,৪৫, ৪৭, ৪৯, ৫১, ৫৩, ৫৫, ৫৭, ৫৯, ৬১, ৬৩, ৬৫, ৬৭, ৬৯, ৭১, ৭৩, ৭৫, ৭৭

এখন এসকল আয়াতসমূহ যোগ করা হলে যা পাওয়া যায় তা হল 1433।
১৩+ ১৬ + ১৮ + ২১ + ২৩ + ২৫ + ২৮ + ৩০ + ৩২ + ৩৪ + ৩৬ + ৩৮ + ৪০ + ৪২ + ৪৫ + ৪৭ + ৪৯ + ৫১ + ৫৩ + ৫৫ + ৫৭ +৫৯ + ৬১ + ৬৩ +৬৫ + ৬৭ + ৬৯ + ৭১ + ৭৩ + ৭৫ + ৭৭ = ১৪৩৩

এখন লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন ১৪৩৩ একটি প্রাইম নাম্বার এমনকি এর যোগফলও প্রাইম নাম্বার (১+৪+৩+৩=১১)

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সূরা আর রহমানের শব্দ সংখ্যা ৩৫৫। এর মাধ্যমে একে বারে আগামী বছর চিহ্নিত হচ্ছে কারণ ১৪৩৩ হল লিপ ইয়ার। আর হিজরী লিপ ইয়ার হয় ৩৫৫ দিন এ।
আরো আশ্চর্যের বিষয় হল পবিত্র কুরআনের ১৪৩৩ নাম্বার আয়াত বর্ণ গুনে গুনে এমনকি শব্দ গুনে গুনে দেখলেও প্রত্যেক ক্ষেত্রেই আযাব এবং শাস্তির কথা লক্ষ্য করা যায়।

১৪৩৩ তম আয়াত হল পবিত্র কুরআনের সূরা ইউনুস এর ৬৯ নং আয়াত।

সূরা ইউনুস (১০-৬৯)“বলে দাও, যারা এরূপ করে তারা অব্যাহতি পায় না।“

আবার বর্ণ গুনে গুনে ১৪৩৩তম হয় সূরা বাকারাঃ(২:৮৬)
“এরাই পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবন ক্রয় করেছে। অতএব এদের শাস্তি লঘু হবে না এবং এরা সাহায্যও পাবে না”।

আবার শব্দ গুনে গুনে ১৪৩৩ তম হয় সূরা বাকারাঃ(২:২৪)

“আর যদি তা না পার-অবশ্য তা তোমরা কখনও পারবে না, তাহলে সে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা কর, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। যা প্রস্তুত করা হয়েছে অবিশ্বাসীদের জন্য”।|

এখন গোলাকার এই পৃথিবীকে ৩৬০˚ দ্রাঘিমাংশ (উল্লম্ব অর্ধবৃত্ত) এবং ১৮০˚ অক্ষাংশে (অনুভূমিক পূর্ণবৃত্ত) ভাগ করা যায়। আবারও সৃষ্টিকর্তা সূরা আর রহমানে ৩১ বার বর্নিত আয়াতের মাধ্যমে এর কথা বলছেন যার পরিসর ০˚ থেকে ৯০˚ এর মধ্যে।

১৩˚ ১৬˚ ১৮˚ ২১˚ ২৩˚ ২৫˚ ২৮˚ ৩০˚ ৩২˚ ৩৪˚ ৩৬˚ ৩৮˚ ৪০˚ ৪২˚ ৪৫˚ ৪৭˚ ৪৯˚ ৫১˚ ৫৩˚ ৫৫˚ ৫৭˚ ৫৯˚ ৬১˚ ৬৩˚ ৬৫˚ ৬৭˚ ৬৯˚ ৭১˚ ৭৩˚ ৭৫˚ ৭৭˚ এখন এই বারবার পুনরাবৃত্তি হওয়া আয়াতসমূহ দুই ধরনের অস্তিত্বশীল বস্তুর (মানুষ ও জ্বিন) কথা বলে তাই এই ল্যাটিটিউড নাম্বারগুলো যদি উত্তরাঞ্চলীয় ও দক্ষিণাঞ্চলীয় উভয় গোলার্ধের জন্য প্রয়োগ করা হয়, (১৩ নর্থ ১৩ সাউথ এভাবে পৃথিবীর মানচিত্রে বসানো হলে) তাহলে তা পবিত্র ভূমি মক্কা, জেরুজালেম, মদীনা, ছাড়া পৃথিবীর সব ঘনবসতিপূর্ণ প্রায় ৯০০০০ এলাকাকে চিহ্ণিত করেব। তবে একটা জিনিস লক্ষ রাখতে হবে তা হল কুরআনুযায়ী পৃথিবীর কেন্দ্র মক্কা যা বিজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত। তাই এক্ষেত্রে আমাদের মক্কাকে কেন্দ্র ধরে হিসাব করতে হবে।

হাদীসে ২০১২ এবং ঈমাম মাহদি সম্পর্কে আসি :

এ বিষয়ে অনেকেই একমত যে ইমাম মাহদির জম্ম হয়ে গিয়েছে। হাদীসে ঈমাম মাহদি আসার আলামত হিসেবে পৃথিবীর চরম বিপর্যয়, দুর্ভোগ এবং মহাদুর্যোগের কথার উল্লেখ আছে।
সব হাদীস না বলে আমি কয়েকটা হাদীস বলব।

“পৃথিবী ততক্ষন পর্যন্ত এর পরিঃশেষ হবে না যতক্ষন পর্যন্ত না আমার পরিবার (বংশ) থেকে একজনের আবির্ভাব হবে এবং সারা পৃথিবীতে ন্যায়ের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে ”

ইমাম মাহদির আগমনের আরেকটি লক্ষন হলো দুইশিংযুক্ত একটি তারার (আপনি চাইলে একে প্লানেট এক্স বলতে পারেন) আগমন যার লম্বা লেজ থাকবে এবং সারা আকাশকে আলোকিত করবে এর কারণে উপকূলবর্তী স্থানসমূহ ডুবে যাবে, ঘনঘন ভূমিকম্প হবে।

মহানবী (সঃ) আরো বলেন,
“তোমরা ততক্ষন পর্যন্ত ইমাম মাহদিকে দেখতে পাবে না যতক্ষন পর্যন্ত না ১৫ রমজান শুক্রবার পৃথিবীর পূর্ব, পশ্চিম এবং অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলাতে তিনটি ভয়াবহ ভূমিধ্বস হবে যা কোনো চোখ এ পর্যন্ত দেখে নি”
তারপর আয়েশা (রঃ) জিজ্ঞেস করলেন “যদিও পৃথিবীতে কিছু ভালো মানুষ থাকবে তাও কি এ ঘটবে?”
মহনবী (সঃ) বললেন, “যখন খারাপের সংখ্যাই বেশি হবে এবং পৃথিবীতে অন্যায় অবিচার বেড়ে যাবে এবং বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে”
এই ভূমিধ্বস ঐ স্থানের সকলকে গিলে ফেলবে।

এই সাইটে গিয়ে ১৫ রমজান ১৪৩৩ লিখে দেখুন তাহলে ইংরেজী সণে যে তারিখ পাওয়া যায় তা হল ৩ আগস্ট ২০১২ শুক্রবার। আল্লাহই ভালো জানেন কি হবে না হবে তবে আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত।

ইমাম মাহদি আসার আরো লক্ষন হলো বিশৃঙ্খলা ও বিদ্রোহ দেখা দিবে এক জায়গায় বিদ্রোহ হতেই অন্য স্থানে বাতাসের গতিতে তা ছড়িয়ে পড়বে। রমজান মাসে ২ টি গ্রহন হবে যদিও এই লক্ষনটি পূর্ণ হয়ে গিয়েছে হিজরী ১৪০২ সণে। ইরাক-ইরান যুদ্ধ ইমাম মাহদি আসার লক্ষন। দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে। সোমালিয়া সহ আরো কয়েকটি দেশে ১.৫ কোটিরও অধিক মানুষ দুর্ভিক্ষ কবলিত।

জেরুজালেম ইহুদিদের দখলে চলে যাবে, মানুষ মিথ্যা কথাকে সুদ গ্রহনকে সকল ধরনের গানবাজনাকে হালাল বলে মনে করবে, অযোগ্য ও অসত্ ব্যক্তিরা রাষ্ট্রপ্রধান হবে , দেশে দেশে বিদ্রোহ দেখা দিবে, সত্য বিলুপ্ত হবে, ধর্মপ্রচার করা কঠিন হয়ে যাবে, ধর্মের কথা বললে মানুষ খারাপ বলে মনে করবে, দিন খুব দ্রুত যাবে বলে মনে হবে এগুলি সবই হলো ইমাম মাহদি আসার লক্ষন। এছাড়া আরো অনেক লক্ষন আছে যা বর্তমান যুগের সাথে মিলে। সিরিয়া, ইয়েমেনে যা হচ্ছে তাও ইমাম মাহদির আগমনের আলামত। হাদিসে বলা হয়েছে দাজ্জাল শাসন করবে ৪০ দিন. ১ম দিন ১ বছরের মত, ২য় দিন ১ মাসের মত আর ৩য় দিন ১ সপ্তাহের মত এবং বাকী ৩৭ দিন আমাদের স্বভাবিক দিনের মত. এখন সুরা হজ্জ এর ৪৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে- “ তোমার প্রতিপালকের ১ দিন তোমার ১ হাজার বছরের সমান”

১ দিন = ১০০০/১বত্সর = ১০০০ বত্সর
১ দিন = ১০০০/১২মাস = ৮৩.৩৩ বত্সর
১ দিন = ১০০০/৫২সপ্তাহ = ১৯.২৩ বত্সর

এই হিসাব অনুযায়ী দাজ্জাল (Antichrist) তার গোপন এবং প্রতারণাপূর্ণ সংগঠন শুরু করেছে তার অনুসারী ইহুদীদের মাধ্যমে বৃটেনে প্রায় ৯০০ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত. যা হল ১০০০ বছর. এইরুপে দাজ্জাল তার ১ম দিন শেষ করল. দাজ্জাল এভাবে ২য় দিনে এবং ১৯১৭ সালে অ্যামেরিকার কাছে এই সংগঠনের ক্ষমতা হস্তান্তর করল এবং সকল ধরনের কার্যক্রম চালু রাখল . ২০০১ সালের ৯/১১ পর্যন্ত যা ৮৩.৩৩ বছর। এভাবে দাজ্জাল তার ২য় দিন শেষ করল এবং তার ক্ষমতা ঈসরাইলের কাছে হস্তান্তর করল. সেই অনুযায়ী এখন চলছে দাজ্জালের ৩য় দিন যা শেষ হবে (২০০১+১৯)= ২০২০ সালে। এরপর আসবে সত্যিকার দাজ্জাল শারীরিক ভাবে যা আমাদের ৩৭ দিনের মত।

আরেক হাদিসে বলা হয়েছে ইমাম মাহদি শাসন করবেন ৭ বত্সর। মহানবী (সঃ) বলেছেন, “বিশাল যুদ্ধ এবং ইস্তাম্বুল জয় এর মধ্যে ৬ বছর পূর্ণ হবে এবং দাজ্জাল এর আগমন ঘটবে সপ্তম বছরে।

অপর হাদিসে বলা হয়েছে ইমাম মাহদি শাসনের ৭ম বছরে দাজ্জালের আগমন হবে। সুতরাং ২০২০-৭=২০১৩. সেই অনুযায়ী ইমাম মাহদির আগমন ২০১৩ এ ঘটতে পারে। আল্লাহই ভালো জানেন. আর ইমাম মাহদির আগমনের পূর্বে পৃথিবীতে মারাত্নক দুর্যোগ হবে তা ২০১২। আল্লাহই ভালো জানেন।

মহানবী (সঃ) বলেছেন, “সারা পৃথিবী ধোয়া দিয়ে আচ্ছন্ন না হওয়া পর্যন্ত সেই দিন (ইমাম মাহদির আগমনের দিন) আসবে না ”
ডিসকোভারির অ্যাপোকিলিপ্স আর ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের বেশ কয়েকটি ডকুমেন্ট রয়েছে এ সম্বন্ধে। তাদের মতে লা পামার (La Palma) এই কুমব্রেভিয়েহা অথবা আমেরিকার ইয়েলোস্টোনের অগ্নুত্পাত হলে সারা আমেরিকা নিশ্চিহ্ন হবে এবং এর ফলে সারা পৃথিবী ধোঁয়ায় ঢেকে যাবে. এমনকি মাসখানেক সূর্যও চোখে পড়বে না।

ঈসা (আঃ) তথা যিশু (Jesus) এর পুনঃআগমন এতে আমাদের প্রত্যেকেরই বিশ্বাস করতে হয়।

শুধু আমি একটাই হাদীস বলব সেটা হলো – ঈসা (আঃ) (Jesus Christ) দাজ্জালকে (Antichrist) ২টি তীর দিয়ে মারবেন গেইট অব লুত এ যা ইসরাইল এ অবস্থিত। আমাদের সমাজে এখন পারমানবিক বোমা থেকে শুরু করে কত ধরনের রাইফেল আছে তা সত্ত্বেও এই শক্তিশালি দাজ্জালকে (Antichrist) কেন ২টি তীর দিয়েই মারা হবে ? এ থেকে বুঝা যায় আমাদের এই চরম উন্নত সভ্যতা আর থাকবে না, মানবের এই উন্নত সভ্যতার পতন ঘটবে এবং কুব কম সংখ্যকই টিকে থাকবে (আল্লাহই ভালো জানেন)।

এখনই সময় জীবনকে সুন্দর করে তোলার নতুবা এমন এক সময় আসবে যখন চাইলেও আর পারবেন না।

আমি কয়েকটা জিনিস স্পষ্ট করতে চাই

১. আমি কিন্তু ১০০ ভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারি না সেই মহাদুর্যোগ এইবছরই হবে, সর্বশক্তিমান আল্লাহই ভালো জানেনে। নিশ্চই তিনি মহাজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ।

২. আমরা কেউ কখনও এ কখনও এ কথা বলতে পারি না যে কেয়ামত অনেক দুরে কারন তা কুরআন বিরোধী। কেয়ামত সম্পর্কিত জ্ঞান আল্লাহর ছাড়া আর কারো নেই। কেয়ামত অনেক দুরে এই কথা বলা উচিত না কারন আল্লাহই কুরআনে উল্লেখ করেছেন যে, “কেয়ামত সন্নিকটে” (সূরা ক্বামার)

আল্লাহর অযাব সম্পর্কে এভাবেই সূরা মুলকের ১৬ থেকে ১৮ আয়াতে বলা হয়েছে-
তোমরা কি নিশ্চিত যে, আকাশে যিনি আছেন তিনি তোমাদেরকে ভূগর্ভে বিলীন করে দেবেন না, অতঃপর তা কাঁপতে থাকবে না।
তোমরা কি নিশ্চিন্ত যে, আকাশে যিনি আছেন, তিনি তোমাদের উপর প্রস্তর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন না, অতঃপর তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী।
তাদের পূর্ববর্তীরা মিথ্যারোপ করেছিল, অতঃপর কত কঠোর হয়েছিল আমার অস্বীকৃতি।

৩. আর আবারও বলছি কেউ এটা কখনই ১০০% বিশ্বাস করবেন না. বিশ্বাস করবেন না যে এটা আগামি বছরই হবে. হ্যা তবে এটা হবেই ২০১২ তে না হলেও এসব ঘটার সময় সন্নিকটে। আর বারবার বলছি পৃথিবী ধ্বংস হবে না বড় দুর্যোগ হতে পারে (আল্লাহই ভালো জানেন) .

৪. আর কখনই বলবেন না কেয়ামত অনেক দুরে কারন মহানবী (সাঃ) বলেছেন, “আমার জন্ম আর কেয়ামত হাতের মধ্যমা আর তর্জনি এই দুই আঙ্গুলের ব্যবধানের সমান”
তাই আমাদের আগে থেকেই সতর্ক হওয়া উচিত নতুবা পরে নিজেই পস্তাবেন।

৫. মহানবী (সঃ) বলেছেন – “শেষ যুগে আমার কিছু উম্মত মদ, ব্যভিচার, ঘুষ, সুদ, মিথ্যা কথা বলা এগুলিকে হালাল বলে মনে করবে ”
এখনকার যুগে এর প্রত্যেকটি হচ্ছে।
আর আমরা হলাম সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর উম্মত মানে আমরা শেষ যুগের মানুষ আমরা এটা কিভাবে ভুলে যাই ???

কেয়ামতের আলামত হল মানুষ ঘরে বসেই দূরের খবর জানতে পারবে। উচু ইমারত নির্মান করা হবে। মেয়েরা বেপর্দার সাথে ঘুরে বেড়াবে। সন্তান বাবা মায়ের অবাধ্য হবে। জিনা ব্যাভিচার বেড়ে যাবে। বর্তমানে এগুলো ব্যাপক হারে ঘটে যাচ্ছে। সুতরাং কেয়ামত সন্নিকটে। তাই আসুন আগে থেকেই সতর্ক হই। আল্লাহ ও রাসুলের (সাঃ) আনুগত্য করি।

৬. আবারও বলছি আমি আপনাকে ভয় দেখাচ্ছি না. এটা জেনে আপনি যদি নিজেকে সংশোধন করেন তাহলেই আমার সাফল্য. আমি এবং আমরা বন্ধু ইমাম মাহদির সাথে ১৪৩৩ তথা ২০১২ এর সম্পর্ক এই নিয়ে রিসার্চ করে নিজেদের পাল্টিয়েছি. এবার আপনার বদলানোর পালা নতুবা পরে অনেক দেরি হয়ে যাবে।

                      ইসলামের বানী ছড়িয়ে দিতে সবাইকে পোস্টটি শেয়ার করার অনুরোধ রইলো।

রমজানে সবার তরে সবাই দো’য়া করবেন যেন সবাই রমজানের সবগুলো রোজা সুস্থ শরীরে রোজার হক্ব আদায় ও তার সাথে  তারাবীর নামাজ পড়ার তৌফিক দান করুন (আমিন)।


হজরত ইব্রাহিম, মুসা ও ইসা (আ.)-এর একেশ্বরবাদী ধারণাকে যিনি সামনে এগিয়ে নিয়ে আসেন তিনি সর্বকালের সেরা মানব হজরত মুহাম্মদ (সা.)। সত্য সুন্দর ও কল্যাণের প্রতিচিত্র ছিলেন তিনি। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে। তবে তার জন্মের সুনির্দিষ্ট তারিখ কোনটি সে সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। ঐতিহাসিক ও হাদিস বর্ণনাকারীদের সিংহভাগের মতে, তিনি রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন। এ মাসের কোন তারিখে মহানবীর (সা.) জন্ম তা নিয়ে ইসলামের দুটি প্রধান সম্প্রদায় সুনি্ন ও শিয়াদের মত ভিন্নতা লক্ষণীয়। সুনি্ন মতাবলম্বীদের সিংহভাগ ১২ রবিউল আউয়াল সোমবারকে মহানবীর জন্মদিন বলে ভাবেন। অন্যদিকে সিংহভাগ শিয়া ইতিহাসবিদ ও জীবনীকারের মতে, হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ১৭ রবিউল আউয়াল শুক্রবার। শিয়া জীবনীকারদের মধ্যে একমাত্র আল কুলাইনী মনে করেন, ১২ রবিউল আউয়ালেই মহানবী (সা.)-এর জন্ম। মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন সম্পর্কে মতভিন্নতার কারণ হলো তিনি যে সময় জন্ম নেন সে সময় আরবদের মধ্যে দিন ও পঞ্জিকা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা ছিল না। মহানবী (সা.)-এর জীবনীকার তের শতকের ইতিহাসবিদ আল-ইরবিলি এ ধারণাই দিয়েছেন। স্মর্তব্য, শুধু মহানবী (সা.) নয়, খ্রিস্টান ধর্মের প্রবর্তক হজরত ইশা (আ.) বা যিশুখ্রিস্টের জন্ম তারিখ নিয়েও রয়েছে একই ধরনের বিভ্রান্তি। ২৫ ডিসেম্বরকে যিশুর জন্মদিন হিসেবে পালন করা হলেও এর পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য দলিল নেই। মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন মুসলমানদের দুটি প্রধান ধর্মীয় সম্প্রদায় সাধারণভাবে দুটি ভিন্ন তারিখে পালন করে। ইরানের শিয়া মতাবলম্বী ইসলামী সরকার এ মতভেদকে পাশ কাটিয়ে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তকের জন্মদিন পালন করে সপ্তাহজুড়ে। ১২ থেকে ১৭ রবিউল আউয়াল পর্যন্ত সপ্তাহকে তারা ঐক্য সপ্তাহ হিসাবেও ঘোষণা করেছে। মহানবী (সা.) ঠিক কবে জন্মগ্রহণ করেছেন সে সম্পর্কে তথ্য-উপাত্তের অভাবে মতভিন্নতা থাকলেও তিনি যে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের প্রতীক হিসেবে বিশ্বে আবির্ভূত হয়েছিলেন সে সম্পর্কে কোনো সংশয় নেই। মানুষকে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করতে আল্লাহ তাকে বেছে নেন। তার ওপর নাজেল হয় ঐশীগ্রন্থ কোরআন। একেশ্বরবাদী ধর্মীয় চেতনার প্রবর্তক হজরত ইব্রাহিম, মুসা ও ইশা (আ.) এর যথার্থ উত্তরসূরী ছিলেন মহানবী (সা.)। ইহুদী, খ্রিস্টানসহ বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মমত একেশ্বরবাদী চেতনার ভিত্তিতে গড়ে উঠলেও ইসলামকে এ ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ও নিখাদ মতবাদ হিসেবে ধরা যায়। বিশ্বনন্দিত রুশ ঔপন্যাসিক লেভ টলস্টয়ের মতে, ‘কয়েক খোদার উপাসনা একই সময়ে সম্ভব নয়। এটি একত্ববাদী ধর্মীয় চেতনারও পরিপন্থি। এদিক থেকে ইসলাম খ্রিস্টীয় মতবাদ থেকেও শ্রেষ্ঠ।’ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে মহানবী (সা.)-এর আবির্ভাব ঘটেছিল মানবজাতিকে সত্যের পথে এগিয়ে নিতে। পরধর্ম সহিষ্ণুতার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অতুলনীয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কুরাইশদের শত্রুতা এড়াতে আল্লাহর নির্দেশে জন্মভূমি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন। তিনি সেখানে সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে এক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলেন। ইহুদিরা মহানবীর (সা.) সঙ্গে সহাবস্থানের চুক্তিতেও আবদ্ধ হয়। কিন্তু তারা তাদের বিশ্বাসঘাতকতার অভ্যাস ভুলতে পারেনি। সে সময়কার কথা। ইহুদিরা ফন্দি আঁটছিল কিভাবে ইসলামের উপর আঘাত হানা যায়। একদিন সন্ধ্যায় মহানবী (সা.) সাহাবাদের নিয়ে মসজিদে বসে আছেন। এমন সময় একদল ইহুদি এসে বললো, হে মুসলমানদের নবী, আমরা মদিনার অধিবাসী নই। বহু দূরের বাসিন্দা। নানা কারণে আজ আমরা সন্ধ্যার আগে মদিনা ছেড়ে চলে যেতে পারিনি। আমাদের এতগুলো লোকের রাত কাটানোর পরিচিত কোনো জায়গাও নেই। আপনি কি এই মসজিদে এক রাতের জন্য আমাদের আশ্রয় দেবেন? খুব সকালে আমরা ঘুম থেকে উঠেই নিজেদের এলাকার দিকে যাত্রা করবো। মহানবী (সা.) বললেন, তোমরা সারাদিন ঘোরাঘুরি করে এখন খুবই ক্লান্ত। আজকের রাতটা এ মসজিদেই আমাদের মেহমান হিসাবে অবস্থান কর। আমার এবং সাহাবাদের খেজুরের ভাগও পাবে তোমরা। এ মসজিদেই তোমাদের রাত কাটাবার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। রাতে এশার নামাজ শেষে মহানবী (সা.) এবং সাহাবারা মসজিদ থেকে চলে যাওয়ার আগে ইহুদিদের সেখানে থাকার সু-ব্যবস্থা করে গেলেন। কিন্তু ইহুদীদের মনে ছিল দুষ্টবুদ্ধি। তারা আশ্রয় লাভের জন্য নয়, এসেছিল মসজিদটির ক্ষতিসাধন করতে। শেষ রাতে মসজিদ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার আগে তার ভেতরে তারা মলমূত্র ত্যাগ করল এবং নানা ক্ষতি করল। ভোরের আগে ফজরের নামাজের জন্য মসজিদে এসে মহানবী (সা.) এবং সাহাবারা দেখেন ইহুদিরা নেই। মসজিদটি মলমূত্রে ভরা। তা দেখে সাহবারা ক্রোধে জ্বলে উঠলেন। তারা ইহুদিদের আসল উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে বলে উঠলেন, আমরা এখনই তাদের ধাওয়া করবো এবং তাদের শির ধুলায় লুটাবো।

সাহাবারা এ জন্য ছুটে যাচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের নিবৃত্ত করলেন। নির্দেশ দিলেন, না তোমরা কোথাও যাবে না। এ মসজিদ তোমাদের কাছে পবিত্র, ইহুদিদের কাছে নয়। সেই কারণেই তারা মসজিদকে এভাবে নোংরা করতে পেরেছে। তাদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়া ঠিক হবে না। আল্লাহর ঘরের সম্মান ও পবিত্রতা আল্লাহই রক্ষা করবেন। তোমাদের উত্তেজিত হওয়া ঠিক হবে না। আজ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ যখন ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার শিকার, তখন মহানবী (সা.)-এর এ সহিষ্ণুতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আছে। প্রতিহিংসা পরায়নতা নয় সহনশীলতা হলো মানব ধর্মের সত্যিকারের সৌন্দর্য। মহানবী (সা.) ছিলেন সে সৌন্দর্যেরই আঁধার।

লেখক : সুমন পালিত; সাংবাদিক ও কলামিস্ট


বিশ্বের মুসলমান সম্প্রদায়ের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরিফ-এর বাংলায় প্রথম অনুবাদের সোয়া শ বছর পেরিয়ে গেছে আজ থেকে এক বছর আগে। একেবারে নীরবে। কাউকে কিছু জানান না দিয়ে। অথচ গিরিশচন্দ্র সেন (১৮৩৫-১৯১০) ছয় বছর দীর্ঘ (১৮৮১-১৮৮৬) কঠোর ও একাগ্র শ্রমে যখন কোরআন শরিফ-এর অনুবাদের কাজ শেষ করেছিলেন, তখন সেটা গোটা বাংলা ভাষাভাষী সমাজে একটা চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী ঘটনা হয়ে উঠেছিল। ঐতিহাসিক ঘটনা তো বটেই। কোরআন শরিফ-এর সঠিক অনুবাদ সেই প্রথম। অমন পরিশ্রমসাধ্য কাজের দৃষ্টান্ত সত্যিই এক বিরল ঘটনা। অবশ্য মাওলানা মহিউদ্দিন খান নামের একজন বিশিষ্ট আলেম পবিত্র কোরআন শরিফ-এর প্রথম বাংলা অনুবাদ করেছিলেন বলে যে দাবি করা হয়, তার অনুকূলে তেমন জোরালো কোনো সমর্থন বা তথ্য পাওয়া যায় না। যদি যেত, তাহলে ১৯৩৬ সালে মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ (১৮৬৮-১৯৬৮) কেন এ কথা বলতে যাবেন, ‘তিন কোটি মোছলমানের মাতৃভাষা যে বাংলা তাহাতে কোরআনের অনুবাদ প্রকাশের কল্পনা ১৮৭৬ খ্রি. পর্যন্ত এ দেশের কোনো মনীষীর দৃষ্টি আকর্ষণ করিতে পারে নাই। তখন আরবি-পারসি ভাষায় সুপণ্ডিত মোছলমানের অভাব ছিল না।…কিন্তু এদিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তাঁহাদের একজনেরও ঘটিয়া উঠে নাই। এই গুরুদায়িত্বভার বহন করিবার জন্য সুদৃঢ় সংকল্প নিয়া, সর্বপ্রথমে প্রস্তুত হইলেন বাংলার একজন হিন্দু সন্তান, ভাই গিরিশচন্দ্র সেন—বিধান-আচার্য কেশবচন্দ্রের নির্দেশ অনুসারে।’ এই ঘটনার উল্লেখ শেষে মাওলানা আকরম খাঁর মন্তব্য, ‘গিরিশচন্দ্রের এই অসাধারণ সাধনা ও অনুপম সিদ্ধিকে জগতের অষ্টম আশ্চর্য বলিয়া উল্লেখ করা যাইতে পারে।’

গিরিশচন্দ্রের জন্ম তখনকার ঢাকা জেলা, বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলার মহেশ্বরদি পরগনার পাঁচদোনা গ্রামে। নবাব আলিবর্দী খাঁর দেওয়ান দর্পনারায়ণ রায়ের বংশে তাঁর জন্ম। ফারসি ভাষা চর্চার জন্য এই বংশের সুনাম ছিল। পাঁচ বছর বয়সেই তাঁর হাতেখড়ি হয়েছিল। সাত বছর বয়সেই ফারসি ভাষা শিক্ষা আরম্ভ করেন। ইংরেজি শিক্ষার ব্যাপারে তাঁর অনীহা ছিল। ফলে ১৩-১৪ বছর বয়সে তাঁকে মুন্সি কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের কাছে ফারসি শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। ১৮-১৯ বছর বয়সে তাঁকে তাঁর এক ভাই ময়মনসিংহে নিয়ে যান এবং ফারসি সাহিত্যে যাতে বুৎপত্তি লাভ করতে পারেন, সে জন্য একজন ভালো মওলানার হাতে তাঁকে তিনি তুলে দেন। সংসদ চরিতাভিধান-এর মতে, এরপর তিনি ময়মনসিংহ ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছারিতে নকলনবিশের কাজ করতেন। কিন্তু সে কাজ তাঁর ভালো লাগত না। ১৮৭১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণের প্রভাবে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন এবং গ্রহণ করেন এই ধর্মের প্রচারকের ব্রত। সর্বধর্মসমন্বয়ে উৎসাহী ভাই গিরিশচন্দ্র কেশবচন্দ্রের আদেশে ইসলাম ধর্ম অনুশীলনে গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন। আরবি ভাষা ও ইসলাম ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়নের জন্য ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি লক্ষ্নৌ যান। এ সম্পর্কে তিনি তাঁর আত্মজীবনী আত্ম-জীবন-এ লেখেন, ‘মোসলমান জাতির মূল ধর্মশাস্ত্র কোরআন শরীফ পাঠ করিয়া এসলাম ধর্মের গূঢ়তত্ত্ব অবগত হইবার জন্য আমি ১৮৭৬ খৃঃ লক্ষ্নৌ নগরে আরব্যভাষা চর্চা করিতে গিয়াছিলাম।’ তখন তাঁর বয়স ছিল ৪২ বছর। তাঁর শিক্ষক ছিলেন ‘সুবিজ্ঞ’ বৃদ্ধ মৌলবি এহসান আলী। ‘আরব্য ব্যাকরণ এবং পারস্য দেওয়ান হাফেজের’ চর্চা করতেন তাঁর কাছে। মৌলবি এহসান আলী সাহেব গিরিশচন্দ্রকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। এরপর লক্ষ্নৌ থেকে আরবি ব্যাকরণের চর্চা শেষে কলকাতায় ফিরে আসেন। সেখানেও তিনি একজন মৌলবির কাছে আরবির পাঠ নিতেন নিয়মিত। পরে ঢাকায় এসে মৌলবি আলিমুদ্দিন সাহেবের কাছ থেকে আরবের ইতিহাস ও সাহিত্যের পাঠ নেন। এ সময়ই গিরিশচন্দ্রের কোরআন শরিফ পাঠের আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ ঘটে। কিন্তু অন্য ধর্মে বিশ্বাসী বলে এই পবিত্র ধর্মগ্রন্থ তাঁর পক্ষে সরাসরি সংগ্রহ করা সম্ভব ছিল না। ফলে তিনি ‘ঢাকা নগরস্থ সমবিশ্বাসী বন্ধু’ মিঞা জালালউদ্দিনের মাধ্যমে একখানা কোরআন সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। তাঁর আত্ম-জীবন-এ তিনি এ সম্পর্কে লিখেছেন, ‘এরপর আমি তফসির ও অনুবাদের সাহায্যে পড়িতে আরম্ভ করি। যখন আমি তফসিরাদির সাহায্যে আয়াত সকলের প্রকৃত অর্থ কিছু কিছু বুঝিতে পারিলাম, তখন তাহা অনুবাদ করিতে প্রবৃত্ত হইলাম।’
কোরআন শরিফ-এর বাংলায় অনুবাদের কাজটা মূলত শুরু হয় ১৮৮১ সালের শেষভাগ থেকে। গিরিশচন্দ্র তখন ময়মনসিংহ শহরে বসবাস করতেন। অল্প অল্প করে অনুবাদ করে তা খণ্ডে খণ্ডে প্রকাশ করতে থাকেন। আত্ম-জীবন-এ এর বিবরণ দিয়ে তিনি আরও জানাচ্ছেন, ‘শেরপুরস্থ চারুযন্ত্রে প্রথম খণ্ড মুদ্রিত হয়, পরে কলকাতায় আসিয়া খণ্ডশঃ আকারে প্রতিমাসে বিধানযন্ত্রে মুদ্রিত করা যায়। প্রায় দুই বছরে কোরআন সম্পূর্ণ অনুবাদিত ও মুদ্রিত হয়। পরিশেষে সমুদয় এক খণ্ডে বাঁধিয়া লওয়া যায়। প্রথমবারে সহস্র পুস্তক মুদ্রিত হইয়াছিল, তাহা নিঃশেষিত হইলে পরে ১৮৯৮ সালে কলকাতা দেবযন্ত্রে তাহার দ্বিতীয় সংস্করণ হয়। দ্বিতীয়বারের সহস্র পুস্তকও নিঃশেষিত প্রায়। এখন (১৯০৬ খ্রি.) সংশোধিত আকারে তাহার তৃতীয় সংস্করণের উদ্যোগ হইতেছে।’
অবশ্য একজন ভিন্ন ধর্মমতের ব্যক্তিপুরুষ পবিত্র কোরআন শরিফ অনুবাদ করায় তখনকার মুসলমান সমাজের একটি ক্ষুদ্র অংশ যে ক্ষুব্ধ ও ক্রোধান্বিত হয়নি, তা নয়। হয়েছিল। কেশবচন্দ্র তাদের সেই ক্রোধের বহিঃপ্রকাশে দুঃখ পেয়েছিলেন এবং মুসলমান সমাজের প্রতি তাঁর সর্বধর্মসমন্বয়বাদের মন্ত্র ও আদর্শের পক্ষে সুদৃঢ় অভিমত তুলে ধরেছিলেন। বাংলায় পবিত্র কোরআন শরিফ-এর অনুবাদের ঘটনায় তিনি অপরিসীম আনন্দ পেয়েছিলেন।
তবে শিক্ষিত ও উদার স্বাধীনচেতা মুসলমানদের বৃহত্তর অংশ গিরিশচন্দ্র সেনের বাংলা অনুবাদে পবিত্র কোরআন শরিফ পেয়ে যে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছিল, এক অর্থে তা অভাবিত ও অভূতপূর্ব। তখনকার কলকাতা মাদ্রাসার ভূতপূর্ব আরবি শিক্ষক আহমদউল্লা এবং আরও কিছু আলেম-উলেমা অনুবাদকের উদ্দেশে ইংরেজিতে যে চিঠি লিখেছিলেন, বাংলায় তার কিছু অংশ উদ্ধৃত করা হলো। তাঁরা বলেছিলেন, ‘আমরা বিশ্বাসে ও জাতিতে মোসলমান। আপনি নিঃস্বার্থভাবে জনহিত সাধনের জন্য যে এতাদৃশ চেষ্টা ও কষ্টসহকারে আমাদিগের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনের গভীর অর্থ প্রচারে সাধারণের উপকার সাধনে নিযুক্ত হইয়াছেন, এজন্য আমাদিগের অত্যুত্তম ও আন্তরিক বহু কৃতজ্ঞতা আপনার প্রতি দেয়।
‘কোরআনের উপরিউক্ত অংশের অনুবাদ এতদূর উৎকৃষ্ট ও বিস্ময়কর হইয়াছে যে, আমাদিগের ইচ্ছা, অনুবাদক সাধারণসমীপে স্বীয় নাম প্রকাশ করেন। যখন তিনি লোকমণ্ডলীর এতাদৃশ উৎকৃষ্ট সেবা করিতে সক্ষম হইলেন, তখন সেই সকল লোকের নিকটে আত্মপরিচয় দিয়া তাহার উপযুক্ত সম্ভ্রমলাভ করা উচিত।’
উল্লেখ করা যেতে পারে, পবিত্র কোরআন শরিফ ভাই গিরিশচন্দ্র অনুবাদ করেছিলেন নিজের নামস্বাক্ষরহীনভাবে। যখন তিনি তাঁর কাজের স্বীকৃতি পেলেন, প্রশংসা পেলেন এবং সেটা স্বয়ং মুসলমান সমাজের কাছ থেকে, তখন তিনি স্বনামে তা প্রকাশ করলেন। এবং এ সম্পর্কে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে ‘অনুবাদকের বক্তব্যে’ বললেন, ‘আজ কোরআনের অনুবাদ সমাপ্ত দেখিয়া আমার মনে যুগপৎ হর্ষ-বিষাদ উপস্থিত। হর্ষ এই যে, এতকালের পরিশ্রম সার্থক হইল। বিষাদ এই যে, ইহার প্রথমাংশ শ্রীমদাচার্য কেশবচন্দ্র সেনের করকমলে অর্পণ করিয়াছিলাম; তিনি তাহা পাইয়া পরমাহ্লাদিত হইয়াছিলেন ও তাহার সমাপ্তি প্রতীক্ষা করিতেছিলেন; শেষাংশ আর তাহার চক্ষুর গোচর করিতে পারিলাম না। ঈশ্বর তাহাকে আমাদের চক্ষুর অগোচর করিলেন। তিনি এই অনুবাদের এরূপ পক্ষপাতী ছিলেন যে, তাহার নিন্দা কেহ করিলে সহ্য করিতে পারিতেন না। আজ অনুবাদ সমাপ্ত দেখিলে তাহার কত না আহ্লাদ হইত, দাসও তাহার কত আশীর্বাদ লাভ করিত।’
এর পর থেকে তিনি মুসলমান ধর্ম বিষয়ে তাঁর অধ্যয়ন ও অনুবাদের পরিধি ক্রমাগত বাড়িয়ে চললেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আরবি ও ফারসি থেকে হাদিসসহ মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), খলিফাবৃন্দ, মুসলমান মনীষীবর্গের জীবনীসহ অন্য বহু বিষয়ে মোট ৪২টি গ্রন্থ বাংলায় রচনা ও প্রকাশ করেন।
এর পর থেকে বাংলার মুসলমান সমাজে যাতে গিরিশচন্দ্রের বাংলায় অনূদিত কোরআন শরিফ বহুল পরিমাণে বিক্রি, প্রচার ও আদৃত হয়, তার জন্যও চেষ্টা করেছিলেন তাঁর অনেক মুসলমান বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী। বাংলা ১২৮৮ সনের ৬ ফাল্গুন আবুয়ল্ মজফ্র আবদুল্লাহ নামের একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি পত্র মারফত অনুবাদককে জানান, ‘মহাশয়ের বাংলা ভাষায় অনুবাদিত কোরআন শরিফ দুই খণ্ড উপহার প্রাপ্ত হইয়া অতি আহ্লাদের সহিত পাঠ করিলাম। এই অনুবাদ আমার বিচেনায় অতি উত্তম ও শুদ্ধরূপে টীকাসহ হইয়াছে। আপনি তফসীর হোসেনী ও শাহ আবদুল কাদেরের তফসীর অবলম্বন করিয়া যে সমস্ত টীকা লিখিয়াছেন এজনের ক্ষুদ্র বিদ্যাবুদ্ধিতে পর্যন্ত বুঝিতে পারিয়াছি, তাহাতে বোধ করি যে, এ পর্যন্ত কোরআন শরীফের অবিকল অনুবাদ অন্য কোনোও ভাষাতেই করা হয় নাই, এবং আমি মনের আহ্লাদের সহিত ব্যক্ত করিতেছি যে, আপনি যে ধর্ম্ম উদ্দেশ্যে যার পর নাই পরিশ্রম স্বীকার করিয়া এই অনুবাদ করিয়াছেন, ইহার ফল ঈশ্বর আপনাকে ইহ ও পরকালে প্রদান করুন।’
এবং ১৯৩৬ সালে যখন ভাই গিরিশচন্দ্রের কোরআন শরিফ-এর চতুর্থ সংস্করণ কলকাতা থেকে বের হচ্ছে, তার ভূমিকায় মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ অকপটে লিখেছেন, ‘…তখন আরবি-পারসি ভাষায় সুপণ্ডিত মোছলমানের অভাব বাংলাদেশে ছিল না। তাঁহাদের মধ্যকার কাহারও কাহারও যে বাংলা সাহিত্যের উপরও যথেষ্ট অধিকার ছিল তাঁহাদের রচিত বা অনুবাদিত বিভিন্ন পুস্তক হইতে তাহার অনেক প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু এদিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তাহাদের একজনেরও ঘটিয়া উঠে নাই।’ পরিশেষে অনূদিত এই কোরআন শরিফ সম্পর্কে তাঁর সেই অবিস্মরণীয় মন্তব্য, ‘গিরিশচন্দ্রের এই অসাধারণ সাধনা ও অনুপম সিদ্ধিকে জগতের অষ্টম আশ্চর্য বলিয়া উল্লেখ করা যাইতে পারে।’
মহীয়সী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনও (১৮৮০-১৯৩২) যারপরনাই খুশি হন বাংলায় পবিত্র কোরআন শরিফ-এর অনুবাদে। গিরিশচন্দ্রকে তিনি ‘মোসলমান ব্রাহ্ম’ বলে উল্লেখ করেছেন নিঃসংকোচে। গিরিশচন্দ্র তাঁর আত্মজীবনীতে তাঁদের দুজনের সম্পর্ক বিষয়ে লিখতে গিয়ে বলেছেন, ‘তাঁহার (রোকেয়ার) সঙ্গে আমার মাতৃপুত্র সম্বন্ধ স্থাপিত। সেই মনস্বিনী মহিলা উক্ত ঘনিষ্ঠতার পরিচয় নিজেই প্রদান করিয়া থাকেন। তিনি আমাকে পত্রাদি লিখিতে পত্রে নিজের নাম না লিখিয়া নামের পরিবর্তে “মা”, “আপনার স্নেহের মা” বলিয়া স্বাক্ষর করিয়া থাকেন।’
বাংলায় প্রথম কোরআন শরিফ এবং মুসলমান মনীষী ও তাঁদের অন্যান্য সাহিত্যকর্ম অনুবাদের কল্যাণে তিনি বাংলার মুসলমান সমাজে এতদূর জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন যে, তাঁকে ‘মৌলবি’ ও ‘ভাই’ গিরিশচন্দ্র অভিধায় অভিহিত করা হতো। সে সময়কার মুসলমান সমাজের পত্রপত্রিকা ও সাময়িকীতে তাঁর জীবনীও ছাপা হয়েছে সবিস্তারে। এমন কী তাঁর মৃত্যুর পর শবানুগমন করেছিলেন ব্রাহ্ম ও মুসলমান সমাজের লোকজন সমভাবে।
গিরিশচন্দ্র সেনকে আমরা ‘মৌলবি’ কিংবা ‘ভাই’, যে বিশেষণেই বিশেষায়িত করি না কেন, বাংলার ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে হিন্দু ও মুসলমান—এই দুই বৃহৎ ধর্মসম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয়গত সেতুবন্ধনে যে সবিশেষ ভূমিকা রেখেছিল তাঁর বাংলায় অনূদিত পবিত্র কোরআন শরিফ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, কোরআন শরিফ-এর সেই অনুবাদ-কর্মের কাল সোয়া শ বছর পেরিয়ে গেছে খুবই নীরবে। কেউ কিছু লেখেননি। আমরা কি জাতি হিসেবে এতই কৃপণ, অনুদার এতটাই!

ফেসবুকে আমি [ ভাল লাগলে পোস্ট এ  অবশ্যই লাইক দিবেন , লাইক দিলে আমাদের কোনো লাভ অথবা আমরা কোনো টাকা পয়সা পাই না, কিন্তু উৎসাহ পাই, তাই অবশ্যই লাইক দিবেন । ]


এটি সমাপ্ত করতে ৫ বছর সময় লেগেছে এবং এখন তা প্রস্তুত। বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোরআন উন্মোচন হলো আফগানিস্তানের কাবুলে।

ক্যালিগ্রাফার মোহাম্মদ সাব্বির খেদরি’র করা এই অসাধারণ, নজরকাড়া, সুকৌশলে সজ্জিত এই কোরআন হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ। খেদরি রয়টারকে বলেন, ‘আমি যথাসম্ভব চেয়েছি আকর্ষণীয় রঙের লেখায় পবিত্র এই বইটিকে সাজিয়ে সুন্দর করে তুলতে’।

খেদরিকে সহযোগীতা করেছেন আরো ৯ জন ব্যক্তি। কোরআনটি রাখা হয়েছে বিশেষ করে তৈরী একটি কক্ষে যা কাবুলের কালচারাল সেন্টারে অবস্থিত। খেদরির এই বৃহৎ কোরআন ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি এটলাস কেও ছোট করে দিয়েছে যার পরিমাপ দৈর্ঘ্যে ১.৭৮ মিটার আর প্রস্থে ১.০৫ মিটার। যদিও এটি বিশ্বের দীর্ঘতম বই হিসেবে নাম করতে পারেনি। দীর্ঘতম বইটি বার্মায় রয়েছে।