কুকুর গাড়ি

Posted: মে 7, 2012 in ইতিহাস, না জানা ঘটনা, Top News
Tags:

পৃথিবীটাই তো একটা গোলক ধাঁধার কারখানা। আর এই কারখানার শ্রমিক আমরা সবাই। এই কারখানায় যা যা ঘটে বা হয় তা দেখাই আমাদের একমাত্র কাজ। তবে এর মাঝে কিছু কিছু মানুষ আছে যারা এই কারখানা পরিচালনা করে। এই কারখানা পরিচালনার দায়িত্ব পৃথিবীর সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেরও কম নয়। আর তাই আবারও বাংলাদেশে উদ্ঘাটন হলো আজব এক ঘটনার। সেই ঘটনাটি ঘটালো বগুড়ার শেরপুরের এক কৃষক। তিনি গরু-মহিষ নয়, কিংবা ঘোড়া নয়, একেবারে প্রভুভক্ত হিসেবে পরিচিত গৃহপালিত পশু কুকুর দিয়ে তৈরি করলেন একটি গাড়ি। আর তার নাম দিলেন কুকুরের গাড়ি। আমরা এবার সেই মানুষটির গল্প শুনব।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কৃষক খোকন মণ্ডল ঘোড়া বা গরুর পরিবর্তে কুকুর দিয়ে গাড়ি টেনে এলাকায় হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন। সেই গাড়িতে চেপে রীতিমতো এ গ্রাম থেকে সে গ্রামে ঘুরে বেড়ানো, হাটবাজারে যাতায়াত, এমনকি মালামাল বহনেও ব্যবহার করা হচ্ছে কুকুরটিকে।

কাঁচা-পাকা পথ পাড়ি দিয়ে কুকুরটানা গাড়িতে করে যখন খোকন মণ্ডল হাট-বাজারে মালামাল নিয়ে যান, তখন রাস্তার পাশে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা। ঘোড়ার মতোই কুকুরের গলায় ঘণ্টা, মুখে লাগাম দেওয়া। লাগাম টেনে ধরলেই থেমে যায়। শুধু রাস্তাতেই নয়, বিষয়টি দেখার জন্য প্রতিদিনই শত শত মানুষ ছুটে যায় তার বাড়িতে।

শেরপুর উপজেলার মধ্যপাড়ার বাসিন্দা খোকন মণ্ডল কৃষিকাজ করে জীবিকানির্বাহ করেন। বর্তমানে তার বাহন কুকুরটির বয়স ১০ মাস। কুকুরটি জন্ম নেওয়ার পরপরই মা কুকুরটি বাচ্চাকে ফেলে নিরুদ্দেশ হয়। পরে নিজ বাড়িতে রেখে প্রতিপালন করেন কুকুর ছানাটি। নাম রাখেন ফটিক। কুকুর ছানার বয়স যখন দুই মাস তখন তার মাথায় ঢোকে বুদ্ধিটি। খোকন মণ্ডল জানান, ‘এক বর্ষা মৌসুমে কুকুরকে দিয়ে মালামাল পরিবহনের চিন্তা মাথায় আসে। তখন বাজারে গিয়ে তিনটি বিয়ারিং কিনে একটি ঠেলাগাড়ির মতো গাড়ি তৈরি এবং তা কুকুরের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে মালামাল বাজারে আনা-নেওয়া শুরু করি।’ তারপর রিকশাভ্যানের দুটি চাকা দিয়ে ঘোড়ার গাড়ির আদলে একটি গাড়ি তৈরি করেন যেন সেই গাড়িতে চড়া যায় এবং মালামালও নেওয়া যায়। সেটি কুকুরের পিঠের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে তার ওপরে ওঠার পর টেনে নিয়ে যেতে শুরু করে ফটিক। এখন এই গাড়িতে করে এক দেড় মণ মালামাল নিয়ে যেতেও কোনো সমস্যা নেই।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে তার এই কুকুরের গাড়ির বিষয়ে জানতে পেরে কয়েকটি সার্কাসের লোক তার কাছে এসেছিল। তারা প্রতিদিন এক হাজার টাকা দিয়ে কুকুর ভাড়া নিতে চায় কিন্তু তাতে তিনি রাজি হননি। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তো শখের বসে করা। ব্যবসার জন্য নয়। সেই শখকে তো আর বিক্রি করে দেওয়া যায় না। তাই রাজি হইনি। তিনি জানান, চেষ্টা করলে যে কোনো প্রাণীকে দিয়ে অনেক কিছুই করানো সম্ভব।

 

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে।